ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটিয়ে ইরানের ওপর নতুন দফায় বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরও এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম প্রধান জানান, ‘বুধবার ইটি সময় সকাল ৬টায় (গ্রিনিচ মান সময় ১০টা) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ইরানের ওপর একযোগে তীব্র বিমান হামলা শুরু করেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর জন্য ইরান যেসব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে আসছিল, সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর আগে সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ব্যবস্থা করলেও, শেষ পর্যন্ত তা দুই দেশের যুদ্ধংদেহী মনোভাব থামাতে ব্যর্থ হলো। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মার্কিন হামলায় ৭ ইরানি সেনা নিহত: ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর অন্তত সাতজন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশটির ইবানশাহর এলাকার বামপুর ব্যারাকে এই হামলা চালানো হয় এবং ইরানি সেনাবাহিনী একে একটি কাপুরুষোচিত আগ্রাসন বলে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এবং ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন বাহিনী মোট তেরোটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বামপুর গ্যারিসন বা সেনা ব্যারাকের বিভিন্ন স্থাপনায় এই বিধ্বংসী হামলা চালায়। এই হামলায় সেখানকার ৩৮৮তম ব্রিগেডের সাতজন সেনা কর্মকর্তা ও কর্মী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ঘাঁটিতে আগে থেকেই নেওয়া কিছু বিশেষ নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কারণে হতাহতের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বাড়েনি।
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত ব্যারাকে থাকা একটি বিশেষ অতিথিশালা, পাহারাদারদের নিরাপত্তা চৌকি এবং সেনাদের থাকার আবাসন ভবনগুলোকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সুনির্দিষ্ট আক্রমণের মূল উদ্দেশ্যই ছিল যেন সেখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটানো যায়। এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানি সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ‘উপযুক্ত সময়ে এই অপরাধের একটি চূড়ান্ত ও নিষ্পত্তিমূলক জবাব দেওয়া হবে’।









































