জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নিষিদ্ধ ‘ঘন চিনি’ দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিশুখাদ্য

নীলফামারীতে সৈয়দপুরে অবাধে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত ‘ঘন চিনি’ বা সোডিয়াম সাইক্লামেট মিশ্রিত শিশু খাদ্য। ব্যবসায়িরা তাদের তৈরিকৃত মালামাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উত্তরের আট জেলায় সরবরাহ করছে। এতে হুমকিতে পড়েছে এসব এলাকার শিশু স্বাস্থ্য।
জানা যায়, চিনি ও স্যাকারিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী পানি জাতীয় খাদ্য তৈরিতে বিকল্প উপকরণ হিসেবে সোডিয়াম সাইক্লামেট বা ঘন চিনি ব্যবহার করছে। শিশুদের জন্য পানিও বালিশ ও ললি নামের বিভিন্ন রকমের পানিয় খাদ্য তৈরিতে বেনজেট, জেনথেন, সোডিয়াম, কালার, ফ্লেভার, পানি ও চিনির পরিবর্তে সোডিয়াম সাইক্লামেট বা ঘনচিনি ব্যবহার করছেন। এমনকি এক টাকার ললিতেও পানি, কালার, ঘনচিনি, ফ্লেভার, সাইট্রিক এসিড মেশানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য জানান, ‘ঘন চিনি’ অন্যন্য চিনির চেয়ে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি। মাত্র ২০ গ্রাম সোডিয়াম সাইক্লামেটে এক কেজি চিনির স্বাদ তৈরি হয়। এই চিনি শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভারসহ নানা অঙ্গ বিকলসহ ক্যানসারে আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে। তাই সরকারি ভাবে সোডিয়াম সাইক্লামেট খাবারে মেশানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর কারণে আমদানি বন্ধ করে সরকার।
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘন চিনি অনেকটা বোতলজাত সাইট্রিক অ্যাসিডের মতো। তাই আমদানিতে সাইট্রিক অ্যাসিড হিসাবে দেশে আসছে। অনেক ব্যাবসায়ী নামী-দামী কোম্পানীর ডিলারশিপের আড়ালে এ বিষাক্ত খাদ্য তৈরির পর রংপুরের আট জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকানে পৌঁছে দিচ্ছে।
জানা গেছে, পানিয় তৈরির কারখানার জন্য সরকারি ভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন, স্থানীয় ট্রেড লাইসেন্স, মান নিয়ন্ত্রনে ল্যাব এবং যথাযথ সুবিধা সম্পন্ন কারখানা ও প্রশিক্ষিত কেমিস্ট দিয়ে পানীয় খাদ্য তৈরির নিয়ম রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, শহীদ ডা. মোবারক হোসেন সড়কের প্রায় ২০টি পাইকারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে পানি জাতীয় বিষাক্ত খাদ্য। অনেকে ভৈরব, চকবাজার, রংপুর, বগুরা থেকে নিয়ে বিক্রি করছে গ্রামাঞ্চলে। বিভিন্ন রঙে রাঙানো মোড়কে প্যাকেটে রয়েছে এ সকল পানিয়। এ শহরের তৈরি। তবে গায়ে লেখা ঢাকার ঠিকানা। কোম্পানির নাম, বিএসটি আই এর সীল নেই। নেই তৈরি ও মেয়াদের সময়। অনেক প্যাকেটে বিএসটিআই এর নকল সীল রয়েছে।
গুড্ডু নামে এক পাইকারি বিক্রেতা জানান, ভেজাল পানি বিক্রেতাদের দৌরাত্ম বেশি। তাদের দাপটে বৈধ্য পণ্য বিক্রি করতে পারিনা। কারণ ভেজাল পানিগুলো স্বস্তায় বেচে। তাই আমরা কোনঠাসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরের হাতিখানা ক্যাস্পের ভলু, ইজহার, সেলিমও ভাক্কল অবৈধ এইসব শিশু খাদ্য তৈরি করে বাজারজাত করে টোকাই থেকে কোটি পতি হয়েছেন। প্রশাসন এসব অবৈধ শিশু খাদ্য তৈরি ও বাজারজাতে কঠোর না হওয়ায় দিনদিন বেড়েই চলেছে প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ির সংখ্যা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলেমুল বাশার বলেন, ভেজালের আগ্রাসনে শিশুরা পরিপাকের সমস্যা তৈরি হয়। ক্ষুদা ও খাদ্য চাহিদা কমে যায়। এতে পুষ্টিহিনতা, চোখণ্ডকানের রোগ, কিডনি ইনফেকশন ও ক্যান্সারের মত প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই এ সকল খাদ্য পরিহার করা উচিত ।একই সাথে ওইসব অবৈধ শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়াও দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
"







































