মুহাম্মদ জুয়েল, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী
পাঁচ বছর আটকে আছে সেতুর কাজ, ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সৈয়খালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও আশপাশের এলাকার মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটি এখনো যান চলাচলের উপযোগী হয়নি। সর্বশেষ নির্ধারিত সময়ও অতিক্রম করেছে আট মাস, অথচ মূল অংশের ডেক স্ল্যাব ঢালাই কাজ এখনো শেষ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি চালু না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাঠ ও বাঁশের অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, বছরের পর বছর ধরে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। ফলে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, কেরানীবাজার ও চরণদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে তারে সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়।
পরে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পায় আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে তারাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পিলার ও গার্ডার নির্মাণ শেষ হলেও ডেক স্ল্যাবের ঢালাই কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। ফলে সেতুটি চালুর কোনো বাস্তব সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চরণদ্বীপের বাসিন্দা মো. গফুর বলেন, ‘প্রতিবারই শুনি সেতুর কাজ শেষ হবে। কিন্তু বছর যায়, কাজ আর শেষ হয় না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে।’
স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, তদারকির ঘাটতি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রনী সাহা বলেন, কাজের অগ্রগতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানা কিংবা চুক্তি বাতিলের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে
পারে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা সৈয়খালী সেতু এখন স্থানীয়দের কাছে উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কাজ শেষ না হওয়ায় দুুই পাড়ের মানুষের প্রশ্ন- আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে এই সেতুর জন্য?
"






































