reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৪ ঘণ্টা আগে

আইএইএ দলের পরিদর্শন 

বাণিজ্যিক উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প  

বাণিজ্যিক উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পটির সার্বিক নিরাপত্তা ও কারিগরি অগ্রগতি যাচাই করতে এসেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তিন সদস্যের একটি উচ্চ-পর্যায়ের কারিগরি প্রকৌশল দল।

ইতোমধ্যে তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিদর্শন শুরু করেছেন।

কেন্দ্রটি সফলভাবে অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তাই এর কারিগরি সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

আইএইএর নিউক্লিয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট সেকশনের টেকনিক্যাল লিড মেহমেত চেইহানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন একই বিভাগের সিনিয়র নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার এরিক জিন বার্নার্ড ম্যাথেট।

প্রকল্পের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপে রয়েছে। আইএইএর কারিগরি দলটি এই পরিচালন পর্যায়ের সার্বিক অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।’

তিনি আরও জানান, দেশের এই মেগা প্রকল্পের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক এই মিশনটি কাজ করছে। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে এক সপ্তাহ অবস্থান করবে, যার মধ্যে টানা দুই দিন তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল প্ল্যান্টে সরেজমিন পরিদর্শন ও কারিগরি মূল্যায়ন চালাবেন।

পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং শুরু হওয়ার মাধ্যমে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার ঐতিহাসিক অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রিঅ্যাক্টর কোরে সফলভাবে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লোড করা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব প্রসেসিং সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরের ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা (টেস্টিং) চলছে।

এদিকে, সাইট পরিদর্শনের পাশাপাশি দেশের পরমাণু জ্বালানি কৌশল, বর্তমান বাস্তবতা এবং এই খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা পর্যালোচনা করতে একটি বিশেষ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি), আইএইএর সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী একটি কৌশলগত গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর বিশিষ্ট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশই মেটানো হচ্ছে রুশ ঋণের মাধ্যমে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়