নাহিদ হাসান রবিন, শেরপুর (বগুড়া)
বগুড়ার শেরপুর
স্বপ্নের বেনারসিপল্লির শেষ প্রদীপও নিভে গেল

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোলাগাড়ি গ্রামের বেনারসি পল্লী আজ পুরোপুরি স্তব্ধ। একসময় যে পল্লীর ঘরে ঘরে তাঁতের ‘খটখট’ শব্দে বোনা হতো দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বেনারসি শাড়ি, সঠিক মার্কেটিং ও বিপণন ব্যবস্থার অভাবে সেখানকার সব তাঁত এখন সরাসরি বন্ধ হয়ে গেছে। গুণগত মানে বাংলাদেশের সেরা বেনারসি শাড়িগুলোর মধ্যে এই পল্লীর উৎপাদিত পণ্যগুলো সগৌরবে জায়গা করে নিলেও, প্রতিকূল বাজারজাতকরণ পরিস্থিতির মুখে পড়ে আজ এই শিল্পের অস্তিত্ব বিলীন।
?এই শিল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। ঢাকার মিরপুর বেনারসি পল্লী থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে মাত্র ৪-৫ জন কারিগর ঘোলাগাড়ি এলাকায় কয়েকটি তাঁত বসিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। কাজের মান ও কারুকার্য অত্যন্ত উন্নত হওয়ায় খুব দ্রুতই এর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে তাঁতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫টিতে উন্নীত হয়েছিল। এখানকার তৈরি শাড়ির বুনন ও টেকসই মান এতটাই উঁচু ছিল যে, তা অনায়াসেই দেশের শীর্ষস্থানীয় বেনারসিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিত।
?তবে এমন উজ্জ্বল সম্ভাবনা সত্ত্বেও মূলত ভৌগোলিক অবস্থান এবং আধুনিক বিপণন কৌশলের অভাবেই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। যাতায়াত ও বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী মহাজনরা নামমাত্র মূল্যে শাড়ি কিনে বাইরে চড়া দামে বিক্রি করতেন। অন্যদিকে, চড়া মূল্যে কাঁচামাল কিনে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে শাড়ি ছাড়তে গিয়ে তাঁত মালিকদের ওপর চেপে বসে লোকসানের বিশাল পাহাড়। দিনের পর দিন এই লোকসান গুনতে গুনতে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মালিকরা।
?শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে না পেরে এবং ঋণের বোঝা মেটাতে ব্যর্থ হয়ে এখানকার দক্ষ তাঁতি ও মালিকরা পৈতৃক পেশা চিরতরে ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে এই পল্লীতে সচল কোনো তাঁত অবশিষ্ট নেই। পেটের দায়ে দেশসেরা বেনারসি তৈরির কারিগররা এখন বেছে নিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন পেশা; কেউ কৃষি কাজ করছেন, কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, আবার কেউবা শহরে পাড়ি জমিয়ে বিভিন্ন কাজ করছেন। সঠিক রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আর সুপরিকল্পিত বিপণন ব্যবস্থার অভাবেই একটি গৌরবোজ্জ্বল দেশীয় শিল্প আজ ইতিহাসের পাতায় বিলীন হয়ে গেল।
"






































