reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২ ঘণ্টা আগে

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী

ক্ষমতা নয়, বিএনপির লক্ষ্য জনগণের সেবা  

প্রতিটি বাজেটের পরই জিনিসের দাম বাড়ে, এবার বাড়েনি 

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা।

শনিবার (১১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে নিজের হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জনগণকে প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক জনগণ। দেশের মালিক কোনো পরিবার বা কোনো দল নয়। জনগণের কাছে প্রশ্ন, যেই বাজেটে জনগণের স্বস্তি আনার ব্যবস্থা করা হয়, তাকে যারা বিরোধিতা করে তারা কি জনগণের বন্ধু হতে পারে?

দেশের চলমান উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো এখন বিএনপি চেষ্টা করছে দেশ গঠনের। কিন্তু চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র করে অগ্রগতি আটকে দিয়েছিল। কিন্তু ভোটে জনগণ বিএনপিকে যে সমর্থন দিয়েছে, ততক্ষণ প্রাণ থাকবে ততক্ষণ দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। কারণ দেশই বিএনপির প্রথম ও শেষ ঠিকানা। তিনি আরও বলেন, ভোটের দাগ শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছে সরকার।

বাজেট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাজেটে প্রতিটি ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাজেটের পরই জিনিসের দাম বাড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকারের বাজেট দেওয়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বলছে এই বাজেট তারা মানে না। যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। এ থেকে বোঝা যায়, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব— এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।’

এ সময় তিনি জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।’

দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সব কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়