মাগুরা প্রতিনিধি

  ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১

মাগুরায় পানচাষিদের দুর্দিন

মাগুরায় পানচাষিদের দুর্দিন চলছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ জেলায় পান চাষ শুরু না হলেও সাফল্য রয়েছে অনেক। গত বছর চাষিরা অনেক লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু এ বছর উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে অভিযোগ চাষিদের।

আঠারোখাদা ইউনিয়নের অক্কুর পাড়া গ্রামের পানচাষি দিদল বিশ্বাস জানান, পান চাষে পরিশ্রম ও খরচ বেশি। এবার ১৫ শতক জমিতে পান চাষ করেছেন তিনি। ফাল্গুন মাসে পানগাছের বীজ রোপণ করেন। পরে বাঁশের মাচা তৈরি করে সুতা টানাতে হয়। গাছ একটু বড় হলে লাঠিতে বেঁধে দিতে হয়। এরপর পরিচর্যা বাড়াতে হয়। পানগাছের লতা বড় হতে শুরু করলে খইল দিতে হবে। পোকা থেকে বাঁচাতে ওষুধ দিতে হয়। একটি পানগাছ পরিপক্ব হতে ৫ থেকে ৬ মাস সময় লাগে। একটি পানগাছে ১৫ থেকে ২০টি পান ধরে। নিয়মিত পরিচর্যার ফলেই গাছে ভালো পান হয়।

তিনি আরো বলেন, গত বছর পানের চাহিদা বেশি ছিল। বিভিন্ন স্থানের পাইকারি আড়তদাররা জেলায় গিয়ে পান ক্রয় করে নিয়ে যেতেন। বাজার ভালো থাকায় ভালো দামও পাওয়া গেছে। কিন্তু এ বছর পানের বাজার খুবই খারাপ থাকায় তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। সবকিছুই মিলিয়ে এবার পানের ভালো ফলন হলেও চাষিদের চলছে দুর্দিন।

পানচাষি রাজকুমার, নৃপেন বিশ্বাস, সত্যেন বিশ্বাস ও মনিকুমার আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় ১৫ বছর টানা এ চাষের সঙ্গে যুক্ত। কৃষি বিভাগ থেকে কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। কোনো কৃষি কর্মকর্তা তাদের মাঠ পরিদর্শনে আসেননি। তাই তাদের সহযোগিতা কামনা করছেন চাষিরা।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ জানায়, পান চাষের উৎপাদন খুবই কম। সব অঞ্চলে পানের চাষ হয় না। এ চাষে জেলার কৃষকদের আগ্রহও কম। এ জেলায় চলতি বছর ১০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। যদি এ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ে তবে কৃষি বিভাগ তাদের যথাযথ পরামর্শ ও সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close