তারাগঞ্জ বাজারের রাস্তাটি পথচারীদের গলার কাঁটা

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা সদরের তারাগঞ্জ বাজারের মূল রাস্তাটি পথচারীদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে থাকে। এবারের বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য সদ্য কাজ শেষ হওয়া যে ড্রেনটি রয়েছে তা মোটেও কাজে আসছে না। দীর্ঘ সময় বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমে থাকার কারণে পথচারীদের ভীষণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নতুন চৌপথী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের থানা মোড় পর্যন্ত রাস্তার কোথাও কোথাও ইট বিছিয়ে দেওয়ার কারণে রাস্তাটি কোথাও উঁচু কোথাও নিচু হয়ে গেছে। ফলে ঠিকভাবে পানি বের হতে পারছে না। অন্যদিকে পানি নিষ্কাশনের যে ড্রেন আছে সেটাও সঠিক পরিচর্যার অভাবে কাজে আসছে না। দেখা গেছে, ড্রেনের কোথাও কোথাও পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসছে।

তারাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আল আমীন ইসলাম বলেন, বাজারের এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকলেও কেউ কোনো রকম কাজ করছে না। এতে করে চরম সংকটে পড়েছি আমরা তারাগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা। তারাগঞ্জ বাজারের এটিই মূল রাস্তা। এটি এভাবে পড়ে থাকার কারণে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

ভ্যানচালক শামসুল আলম বলেন, ‘মুই সকালে পাওং দিয়া টানা ভ্যান ধরি আইসোং। সারাদিন নয়া চৌপথী থাকি বাজারের থানার মোড় পর্যন্ত কষ্ট করি ভ্যান টানোং। মুই সারা দিন ভ্যান টানি যে কয় টাকা কামাই করোং সেই টাকা দিয়া বাড়ির সোবার জন্যে খরচ করি নিয়া যাওং। কিন্তু এই রাস্তাটার এই অবস্থা হওয়ার জন্যে মোর কামাই কমি গেইচে অর্ধেক। মুই সেই কারণে বাড়িত আর আগরে মতন খরচ দিবার পাওচো না। সেই তকে মোর বাড়ির সোবায় খেয়া না কেয়া দিন কাটায়ছে। রাস্তা কোনার কাম করলে মোর কামাই বাড়িল হয়।’

করোনার কারণে দীর্ঘদিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হন অনেক ব্যবসায়ী। বাজারে এমনিতেই ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তার ওপর বাজারের রাস্তাটির এমন নাজেহাল অবস্থা এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

তারাগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আফান বলেন, রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় আমাদের বাজারের ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোলেমান আলী বলেন, সড়কটি একেবারেই ব্যবহার অনুপযোগী। অগ্রণী ব্যাংক মোড় এলাকার প্রায় ২০০ গজ ইট সলিং করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

 

 

"