নাসিকে পানি সরবরাহে বাজেট ৮০০ কোটি

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

আবদুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ

ঢাকার নিকটবর্তী দেশের অন্যতম ব্যস্ত, গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরী নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকায় প্রায় ২০ লাখ লোকের বাস। এত বিপুল সংখ্যক নাগরিকের পানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নাসিকের। পানির এ সংকট নিরসনে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। পানি সমস্যা দূরীকরণে ৮০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। যা আগামী ২১ সালের শেষের দিকে এর কাজ শুরু হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী নাসিক আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪টি বৃহৎ আকারে পরিশোধানাগার তথা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হবে। এই চারটি শোধানাগার থেকেই ২৭টি ওয়ার্ডের কয়েক লাখ মানুষের পানির ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, আমি ওয়াসা যে অবস্থায় পেয়েছি তা বিকল, অচল। এ অবস্থা থেকে উঠে আসতে হলে আমাকে সময় দিতে হবে। ওয়াসা বুঝে নেওয়ার সময়ই আমি বলেছিলাম, কম করে হলেও আমাকে দুই বছর সময় দিতে হবে এই সময়ের মধ্যে পানির সমস্যা সমাধান করব।

সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালে ১ জুলাই থেকে নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকায় ওয়াসার কার্যক্রম শুরু হয়। ওয়াসার অব্যবস্থাপনায় শহরবাসী ছিলেন তিক্ত বিরক্ত। এ নিয়ে সভা সমাবেশ মিটিং মিছিলও করেছে শহরবাসী। নাগরিক কমিটি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে ওয়াসার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া দাবি তোলা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গত ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার নারায়ণগঞ্জ মডস জোন পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।

সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, দায়িত্ব হাতে নিলেও ওয়াসার সব কিছু পুরোনো এবং বিকল। বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে গোদনাইলের মতো আরো নতুন চারটি পানি শোধনাগার তৈরি করার জন্য সিটিপি তৈরি করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে নারায়ণঞ্জের বন্দরে ২৭-২৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি, সিদ্ধিরগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি আর ৯ বা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি একটিসহ ৪টি প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে। এছাড়া পানির সমস্যা সমাধানের জন্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা ২০২১ সালের শেষের দিকে টেন্ডার বাস্তবায়ন হবে বলে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে।

মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, এখন কোথাও আগের মতো পানির সমস্যা নাই। কিছু কিছু জায়গায় পাম্প নষ্ট হচ্ছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে জানাচ্ছি। তারা এসে ঠিক করে দিয়ে যাচ্ছে।

এটা সত্য, যে পরিমাণ পানি উৎপাদন হওয়ার কথা তার থেকে পরিমাণে কিন্তু কম হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমি পাম্পের জন্য টেন্ডার দিয়েছি। কিন্তু পাম্প আমাদের স্থায়ী সমাধান নয়। আমাদের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যাান্ট করতে হবে। গোদনাইলে যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আছে ওইরকম আরো চারটি প্ল্যান্ট করার জন্য এরই মধ্যে আমরা সিটিপি তৈরি করছি। পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। যার ফলে কাজে কিছুটা ধীরগতিতে আগাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এই যন্ত্রপাতিগুলো মেরামত করতে হলে সময়ের প্রয়োজন। আমি দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর থেকেই এর পেছনে লেগে আছি।

 

 

"