reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১২ অক্টোবর, ২০২১

পৃথিবী বদলে দেওয়া নারীদের সেরা ১০ আবিষ্কার

আইসক্রিম মেকার : চকলেট, ভ্যানিলা, স্ট্রবেরি, ম্যাংগো যে ফ্লেভারই আপনার পছন্দের হোক না কেন, সব বয়সি মানুষের পছন্দের তালিকার প্রথম নামটি ইয়াম্মি আইসক্রিম। শুধু আইসক্রিম পার্লারে গিয়ে এখন আপনাকে আইসক্রিমের স্বাদ নিতে হবে এমনটি নয়, বাড়িতে বসেও আপনি সুস্বাদু আইসক্রিম বানাতে পারবেন আইসক্রিম বানানো যন্ত্রের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রে আইসক্রিম তৈরির প্রথম যন্ত্র উদ্ভাবন করেন নারী বিজ্ঞানী ন্যান্সি জনসন। ১৮৪৩ সালে তিনি তার উদ্ভাবিত আইসক্রিম তৈরি যন্ত্রটির প্যাটেন্ট করেন। বর্তমান যুগে ইলেকট্রিক আইসমেকার থাকলেও অনেক জায়গাতেই এখনো ন্যান্সির সেই আইসক্রিমফ্রিজার ব্যবহৃত হয়। আইসক্রিমপ্রেমীদের আইসমেকার বানানোর জন্য প্রশংসার দাবিদার এই গুণী উদ্ভাবক।

সিসি টিভি : হঠাৎ জুয়েলারি দোকানের কাচ ভেঙে মূল্যবান স্বর্ণালংকার নিয়ে দৌড় দিল চোর। মুহূর্তের মধ্যে আপনি শনাক্ত করলেন কে সেই চোর। এই কাজে যে ডিভাইসটি আপনাকে সহযোগিতা করবে তা হলো বর্তমান প্রযুক্তির সিসি টিভি। শুধু শপিং মল কিংবা অফিস বা রাস্তার মোড়ে এমনকি মানুষের বাসাবাড়িতে পৌঁছে গেছে উন্নত আধুনিক সিসি টিভি। বিশ্বজুড়েই নিরাপত্তার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সিসি টিভি ক্যামেরার উদ্ভাবক ম্যারি ভ্যান ব্রিটান ব্রাউন নামের একজন নারী। ১৯৬৯ সালে যখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন হচ্ছিল ঠিক তখনই তিনি এটি আবিষ্কার করেন। একই সালে প্যাটেন্ট লাভ করার প্রধান কারণ হলো ব্রাউনসহ সব নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

কম্পিউটার সফটওয়্যার : আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন গণনাকারী যন্ত্র হলো কম্পিউটার। ১৯ শতকের শেষে ইউএস নেভির একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডমাইরাল ড. গ্রেস মুরো। ইউজারফ্রেন্ডলি কম্পিউটার সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি করে প্রযুক্তি জগতকে একধাপ এগিয়ে নেন। বলাবাহুল্য, তিনিও একজম নারী বিজ্ঞানী ছিলেন যা সে সময়ের ক্ষেত্রে বিরল। এ ছাড়া তিনিই সবার আগে কম্পিউটারের সিস্টেমে ‘বাগ’ বা ত্রুটিও ধরতে পেরেছিলেন।

ইনজেকশন সিরিঞ্জ : হেপাটাইটিস, টাইফয়েডসহ অনেক চিকিৎসায় ইনজেকশন হলো আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু ছোটবেলায় আমরা শুধু এই সিরিঞ্জের ভয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে পালাতাম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বর্তমানে অনেক ব্যবহৃত সরঞ্জাম ইনজেকশন সিরিঞ্জ। ১৮৯৯ সালে একজন নারী বিজ্ঞানী লেটিটা গির ইনজেকশন সিরিঞ্জ আবিষ্কার করেন। এটি এমন একটি সিরিঞ্জ যা শুধু এক হাত দিয়েই ব্যবহার করা সম্ভব।

বিদ্যুৎচালিত রেফ্রিজারেটর : বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য একটি যন্ত্র হলো আধুনিক বিদ্যুৎচালিত রেফ্রিজারেটর। ১৯১৪ সাল থেকে যন্ত্রটির ব্যবহার বিশ্বব্যাপী শুরু হয়। আর এই আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছেন একজন নারী, তিনি হলেন ফ্লোরেন্স পারিপার্ট। শুধু বিদ্যুৎচালিত রেফ্রিজারেটর নয়, বরং সেইসঙ্গে ১৯০০ সালে রাস্তা পরিষ্কার যন্ত্র নির্মাণের একটি প্যাটেন্টও লাভ করেন যা পরবর্তী সময়ে বাজারজাত করতে সক্ষম হন। পেপার ব্যাগ মেশিন-সুবিধাজনক, সস্তা এবং পরিবেশবান্ধব। আর যেটির মাধ্যমে পেপার ব্যাগ বানানো যায়, সেই মেশিনটি আবিষ্কার করেছিলেন মার্গারেট নাইট নামে আরেকজন নারী উদ্ভাবক। কিন্তু চার্লস অ্যানান নামক একজন বিজ্ঞানী মার্গারেটের এই আবিষ্কার কিছুতেই স্বীকার করতে রাজি ছিলেন না। কেননা চার্লস অ্যানান মার্গারেটের এই আবিষ্কারকে নিজের বলে চালিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। যার কারণে মার্গারেটকে প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে নানা তর্ক-বিতর্কের মুখোমুখি হতে হতো। একজন নারী বিজ্ঞানী কীভাবে বিস্ময়কর এই আবিষ্কার করতে পারেন, তার বিপক্ষে ছিলেন চার্লস। কিন্তু জয়ী হয়েছিলেন নারী বিজ্ঞানী মার্গারেট নাইট। তিনি ১৮৭১ সালে এই প্যাটেন্ট লাভ করেন। আর সেই সমালোচক চার্লস হারিয়ে গেছেন কালের গহ্বরে।

দ্য ফায়ার স্কেপ : কোনো একটি বিল্ডিংয়ের আটতলায় হঠাৎ আগুন লাগলে নিরাপত্তা সেবার অভাবে আগুন মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই আগুনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একটি ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, যেটি ফায়ার স্কেপ নামে পরিচিত। এই ফায়ার স্কেপের আবিষ্কারক একজন নারী। ১৮৮৭ সালে এই নারী বিজ্ঞানী অ্যানা কোন্নেলি ফায়ার স্কেপ আবিষ্কার করেন।

মনোপলি : মনোপলি খেলাতে খেলোয়াড়রা টাকা-পয়সা দিয়ে পছন্দমতো জায়গা-জমি কেনে। অনেকের কাছে এটি ‘ধনী হওয়ার মজার খেলা’ নামে পরিচিত। এই মজার বোর্ড গেমটির আবিষ্কারক একজন নারী। ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদস্বরূপ এই খেলাটি আবিষ্কার করেন এই বিজ্ঞানী। কিন্তু তার এই আবিষ্কার পূর্ণ মাত্রা পায় আরো ৩০ বছর পর যখন চারলেস ড্যারো নামক এক ভদ্রলোক এটিকে পার্কার ব্রাদার্স নামের একটি ফার্মের কাছে বিক্রি করে দেয়। বলছি অন্যতম নারী বিজ্ঞানী এলিজাবেথ ম্যাগির কথা যিনি ১৯০৪ সালে এই খেলাটি আবিষ্কার করেন। সর্বপ্রথম ‘দ্য ল্যান্ডলর্ড গেম’ নামে এটি পরিচিতি লাভ করে। প্রথমে তার এই সৃজনশীল কাজের কোনো মূল্যায়ন না হলেও পরে ফার্ম থেকে ম্যাগিকে অবদানস্বরূপ ৫০০ ডলার দেওয়া হয়।

তারবিহীন যোগাযোগব্যবস্থা : বর্তমান যুগের ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থার অবদান। কোনো তারের প্রয়োজন পড়বে না এবং সরাসরি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে, এই ভিত্তিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এমন এক যোগাযোগ ব্যবস্থা আবিষ্কার করা হয়। যা দিয়ে গোপনে যুদ্ধকালীন সময়ে খবর নিয়ে যোগাযোগ করা যায়। আজকের ওয়াইফাই থেকে জিপিএস, সবকিছুর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এই আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই। তৎকালীন সময়ের অনেক বড় সিনেমা তারকা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন হ্যাডি লামার, যিনি ছিলেন এই তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থারও উদ্ভাবক।

লাইফ বোট : মারিয়া বেইস ছিলেন একজন পর্যটক, যিনি প্রায়ই সমুদ্র ভ্রমণে যেতেন। কিন্তু এক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার কারণে এই নারী উদ্ভাবক বলেছিলেন, শুধু পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে মানুষের ডুবে মৃত্যু হতে পারে না। অনেক মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি লাইফ বোট উদ্ভাবন করলেন। এই লাইফবোট ১৮৮২ সালে উদ্ভাবনের পর থেকে এখনো সমুদ্রযাত্রায় জীবন রক্ষাকারী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তথ্য সূত্র : সংগৃহীত

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close