সালাহ উদ্দিন বাবর
এআই সিগন্যালে ঢাকার সড়কে ফিরছে শৃঙ্খলা

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আধুনিক প্রযুক্তির এ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ডিএমপি এবং দুই সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এ আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরা ব্যবস্থা রাজধানী ঢাকার ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক ট্রায়ালে সড়কে নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়লেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং ব্যাক অ্যান্ড ব্যবস্থাপনার ত্রুটিতে চালক ও সাধারণ মানুষের মনে নতুন কিছু শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের ৭ মে প্রথম ঢাকার সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ও ক্যামেরা পদ্ধতি চালিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় চলাচলের সঙ্গে পরিচিতি হয় নগরবাসীর। ঢাকার শাহবাগ, কারওয়ানবাজার, বিজয় সরণি ও জাহাঙ্গীরগেটের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে প্রাথমিকভাবে শুরু হয় এ ট্রাফিক কার্যক্রম। তারপর থেকেই ঢাকা হয়ে উঠতে থাকে অন্যরকম। যানজট ও বিশৃঙ্খলা এবং যাত্রা বিড়ম্বনায় কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় নাভিশ্বাস ওঠা রাজধানীবাসী ফেলতে থাকেন স্বস্তির নিশ্বাস। ডিএমপির ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা আর জনমনে স্বস্তি ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা দিয়ে নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে সড়কে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ও সহজ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচলে ফিরছে শৃঙ্খলা। প্রাথমিক অভিজ্ঞতার আলোকে এখন ঢাকা মহানগরের আরো ১২০ পয়েন্টে ১ হাজারটি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যেই এ কাজ শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
রাজধানী ঢাকার সড়কের বিশৃঙ্খলা দূর করতে অতীতের কোনো পরিকল্পনাই যখন কাজে আসছিল না, ঠিক তখনই শৃঙ্খলা ফেরাতে এসেছে আধুনিক প্রযুক্তি। চালকদের আইন মানাতে পুলিশ এবার রাজপথে নামিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই ক্যামেরা। এআই ক্যামেরা দিয়ে নজরদারিতে প্রথম থেকেই ঢাকার প্রধান সড়কগুলোর চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগরবাসী আমাদের চালু করা সিস্টেমের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছে। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক অভূতপূর্ব ও দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে। ঢাকার ১৬টি মোড়ে ৩৭টি এআই এবং ৮০টি পিটিজেড ক্যামেরা বসানোয় ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা কমেছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এআই নজরদারির আওতায় আনা হবে। পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে আরো ৬০টিসহ ১২০টি পয়েন্টে এআই ক্যামেরায় চালু হবে। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকার সড়কে ১ হাজারটি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’
বাংলাদেশের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও মামলা ব্যবস্থা আশির দশকের হাতে লেখা স্লিপ এবং পরে পজ মেশিনের ম্যানুয়াল পদ্ধতি পেরিয়ে এখন আধুনিক এআইভিত্তিক ই-প্রসিকিউশন যুগে প্রবেশ করেছে। আগে পুলিশকে সরাসরি উপস্থিত থেকে মামলা দিতে হলেও নতুন এ ডিজিটাল ব্যবস্থায় আইনলঙ্ঘনকারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে। ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সড়কে প্রতিদিন চলাচলকারী অন্তত ২০ লাখ যানবাহনের বিশাল চাপ সামলাতে এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখছে। ট্রাফিক নিয়ম রক্ষার পাশাপাশি এ উন্নত এআই ক্যামেরাগুলো গাড়ির চুরি রোধ ও অপরাধী শনাক্তকরণেও কার্যকরভাবে কাজ করবে।
এআইভিত্তিক ক্যামেরায় সংযোজন করা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার। সফটওয়্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো গাড়ি আইন লঙ্ঘন করলে সেটিকে শনাক্ত করছে ক্যামেরা। তখন ডিজিটালি মামলা দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট গাড়িটির মালিকের নামে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ ব্যবহার করছে পুলিশ। এটি ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ঘুরে ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে পারে। এ ক্যামেরা সহজেই কম্পিউটার বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘অপটিক্যাল জুমের’ মাধ্যমে অনেক দূর থেকে স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের একেকটি ক্যামেরার দাম ৬০ হাজার টাকার বেশি। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে সফটওয়্যারটিতে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাতে এটি ছয় ধরনের আইন অমান্যের ক্ষেত্র শনাক্ত করতে পারে। নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব আইন অমান্য করা যানবাহন শনাক্ত করে নম্বরপ্লেটসহ ছবি তুলে রাখে পিটিজেড এ ক্যামেরা। সেসব ছবি-ভিডিও ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা হয়।
সফটওয়্যারের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সহজেই আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের নম্বর দিয়েই মালিকের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সার্ভারে জমা হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে মালিকের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে। ডিএমপি সদর দপ্তরে এ বছরের ২৯ এপ্রিল এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করা হয়। এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। ৭ মে থেকে নির্ধারিত মোড়গুলোয় স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। উল্লেখ্য, ঢাকার গুলশান-১, গুলশান-২, উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, রামপুরা ট্রাফিক বক্স, মহাখালী, শাহবাগ, হাইকোর্ট ক্রসিং, সচিবালয় সিগন্যাল, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, পুলিশ ভবন, পুরাতন রমনা থানা ক্রসিং, বাংলামোটর, বিজয় সরণি, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি, লেকরোড, জাহাঙ্গীরগেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের ক্রসিং, সুগন্ধাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে বসেছে এআই ক্যামেরা।
ট্রাফিক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ঢাকার ১৬টি মোড়ে বসানো ৩৭টি নতুন এআই ক্যামেরা এবং আগে থেকে থাকা ৮০টি ক্যামেরাকে এআই প্রযুক্তিতে রূপান্তর করে বর্তমানে কাজ চালানো হচ্ছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে ১১৭টি ক্যামেরার ভিডিও চিত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সরাসরি বিশ্লেষণ করছে ট্রাফিক বিভাগ। ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাকে পুরোপুরি আধুনিক করতে পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল বাতির খুঁটিতেই এ উন্নত ক্যামেরা বসানো হবে। রাজধানীজুড়ে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি নিশ্চিত করতে ক্যামেরার সংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত করার বড় পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাফিক বিভাগের। ঢাকায় গত ৭ মে থেকে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মামলা দেওয়ার আধুনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এআই ক্যামেরা চালুর পর প্রথম দুই মাসে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ডিজিটাল মামলা করা হয়েছে, যার নোটিশ ডাকযোগে গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মে মাসে সড়কে আইন লঙ্ঘনের দায়ে রাজধানীতে ৩৮,২৮৪টি মামলা করা হয়। এ মোট মামলার মধ্যে শুধু উন্নত এআই প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় নজরদারির মাধ্যমেই মে মাসে ৬৭২টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বেশি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত হওয়া মামলার প্রায় ৭০ শতাংশই হয়েছে সড়কে বাস থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা বা যানজট সৃষ্টি করার অভিযোগে। ২০ শতাংশ মামলা হয়েছে বাম দিকের লেন দখল করে রাখার কারণে। আর বাকি ১০ শতাংশ মামলা হয়েছে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্যসহ অন্যান্য অপরাধে। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে। এরপর রয়েছে জাহাঙ্গীরগেট, বিজয় সরণি ও বাংলামোটর মোড়।
এআই ট্রাফিক মামলার নামে প্রতারণা:
ডিএমপির সতর্কবার্তা এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক মামলা শুরুর পর থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র। জরিমানার ভুয়া নোটিশ পাঠিয়ে সাধারণ চালক ও গাড়ি মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। লক্ষ্যবস্তু করা ব্যক্তির মোবাইল ফোনে ‘জরিমানা পরিশোধ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। হুবহু নকল তথ্য মেসেজে একটি আসল নোটিশের মতোই মামলা নম্বর, তারিখ, অপরাধের ধরন এবং জরিমানার সময়সীমা উল্লেখ করা থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা না দিলে কঠোর আইনি শাস্তির ভয় দেখানো হয়। মেসেজের সঙ্গে একটি লিঙ্ক দেওয়া থাকে। সেখানে ক্লিক করলেই জরিমানার একটি ভুয়া অঙ্ক স্ক্রিনে ভেসে ওঠে এবং টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানিয়েছে, এমন কোনো ডিজিটাল বার্তা বা লিঙ্ক ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে পাঠানো হচ্ছে না। ট্রাফিক আইন অমান্য করলে গাড়ির মালিক বা চালকের ঠিকানায় শুধু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা একটি লিখিত চিঠি পাঠানো হয়। মোবাইলে আসা কোনো ট্রাফিক জরিমানার লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং টাকা লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। এ ধরনের ফাঁদ থেকে নিজেকে এবং পরিচিতদের সুরক্ষিত রাখতে যেকোনো সন্দেহজনক মেসেজ এড়িয়ে চলুন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘সমন্বয়ের যে একটা ঘাটতি ছিল- এ ঘাটতিটা আমরা অতিক্রম করতে পেরেছি। কারণ এখানে আমরা সিগন্যাল ডিজাইন করছি। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করছি। আমরা প্রযুক্তিটা বসাচ্ছি। সিটি করপোরেশন প্রযুক্তি বসানোর আগে যে কাজগুলো করার, তারা সেগুলো করছে। একইসঙ্গে পুলিশ এটা সানন্দে গ্রহণ করেছে।’ তবে সাফল্যের পাশাপাশি এ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে এখনো কিছু শঙ্কা রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় এ প্রযুক্তির আওতায় পথচারী এবং অটোরিকশা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় অর্জিত সাফল্যকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গত আড়াই দশকে বিশ্বব্যাংক, জাইকা এবং সরকারি অর্থায়নে ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়নে অন্তত ৭টি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পূর্বের অধিকাংশ প্রকল্পই অকার্যকর হয়ে পড়ে। বুয়েট ও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ট্রাফিক সিগন্যাল পাইলট প্রকল্পটি ঢাকার যানজট নিরসনে আশার আলো দেখাচ্ছে।
"








































