নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারভিত্তিক ডলার রেট চালুর ঘোষণা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আইএমএফের ঋণ শর্ত পূরণে বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হার চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুবাই থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বাজারভিত্তিক ডলার রেট চালুর জন্য আমরা অপেক্ষা করেছি। এখন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময় এসেছে। তবে এর মানে এই নয়, যেকোনো দামে ডলার কেনাবেচা হবে। বিদ্যমান হারের আশপাশেই বিনিময় হার থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ডলারের বিনিময় হার বাংলাদেশ নিজের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিমালার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। অন্য দেশের কথায় বা জল্পনায় রেট নির্ধারণ হবে না। বর্তমানে বাজারে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।’
ড. আহসান জানান, আইএমএফ ঋণের পাশাপাশি জুন মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), আইএমএফসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক দাতা সংস্থা থেকে বাংলাদেশ মোট ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। এর মধ্যে আইএমএফ ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের নীতিমালা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বড় অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আইএমএফের সঙ্গে বিনিময় হারে নমনীয়তা আনার বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছে বাংলাদেশ। ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতি বাস্তবায়নে জটিলতা থাকায় পূর্ববর্তী কিস্তি ছাড়ে বিলম্ব হয়। তবে নতুন উদ্যোগের ফলে আইএমএফের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের পথ এখন উন্মুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন দেয়। এরই মধ্যে তিন কিস্তিতে ২.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে। বাজারভিত্তিক রেট চালুর মাধ্যমে বাকি অর্থছাড় প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
জুনেই মিলবে আইএমএফের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি ঋণ : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, মুদ্রা বিনিময়
হারসহ অন্যান্য সংস্কার কাঠামো বিষয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আইএমএফ চলতি বছরের জুনের মধ্যে ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার একত্রে ছাড় করবে বলে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আইএমএফের চতুর্থ রিভিউ সফলভাবে শেষ হয়েছে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং বিনিময় হার ব্যবস্থায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে অধিকতর পর্যালোচনার লক্ষ্যে চতুর্থ রিভিউ সম্পন্ন হওয়ার পর উভয় রিভিউয়ের জন্য নির্ধারিত কিস্তির অর্থ একত্রে ছাড় করা হবে মর্মে বিগত তৃতীয় রিভিউয়ের পর সিদ্ধান্ত হয়। সে ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ রিভিউয়ের সময় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং পরবর্তী সময়ে একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ব্যাংক-ফান্ড সভায় আলোচনা চলমান থাকে।
এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে সব বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে উভয় পক্ষ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, মুদ্রা বিনিময় হারসহ অন্যান্য সংস্কার কাঠামো বিষয়ে সম্মত হয়েছে। চতুর্থ রিভিউয়ের স্টাফ লেভেল এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন হওয়ায় আশা করা হচ্ছে, আইএমএফ চলতি বছরের জুনের মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির জন্য নির্ধারিত ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার একত্রে ছাড় করবে।
আইএমএফের ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়াও বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি, জাপান এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরো প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এ অর্থ প্রাপ্তির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্তিশালী হবে, যা মুদ্রার বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব সংস্কার কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব বিবেচনায় পরিকল্পিত এবং জাতীয় স্বার্থে গৃহীত। এসব সংস্কার কর্মসূচির ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের কার্যক্রম শুধু কারিগরি সহায়তা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
"









































