প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ৩১ জুলাই, ২০২১

আরো ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ডুবে গেছে ফসলের খেত। তাছাড়া পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়োহাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে, বর্ধিত পাঁচ দিনে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান খান জানান, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল (খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চল) ও এর কাছাকাছি পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে স্থল নিম্নচাপ হিসেবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাব বিরাজমান থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলো এবং দেশের উপকূলীয় এলাকায় জারি করা ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান খান বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে আগ্রসর হতে পারে।

তিনি জানান, ভারী বর্ষণের ফলে আবারও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া পরবর্তী তিন দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ফেনীতে, ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদী খানে বর্ষার আগেই পানিবন্দি হয়েছে শতাধিক পরিবার, সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, বরগুনার তালতলীতে কৃষি ও মৎস্যঘের চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, লোহাগাড়ায় পানিবন্দিতে চুনতির ৬০ পরিবার, কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও ঢলে ২২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট

বান্দরবান : বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় সাংগু নদীর পানি নামতে থাকায় লোকজন বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। ফলে পৌর এলাকার ইসলামপুর, আর্মিপাড়া, হাফেজঘোনা, শেরেবাংলা নগরসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলের বন্যার পানি নামতে থাকায় জনজীবনে স্বস্তি নেমে আসে। রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে দুর্ভোগ কমেনি।

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড ও বালুচর বাজার ধলেশ্বরী নদী বিধৌত ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শতাধিক পরিবার বৃষ্টি এলেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ইউপি সদস্য মো. আবুল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এ সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। একটু বৃষ্টি হলেই পানিবন্দি হয়ে থাকেন। সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টা আগে জানতাম না। এখন অবগত হলাম।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্যঘের ও ফসলি জমি। তলিয়ে গেছে ১৭০০ হেক্টর সদ্য রোপা আমন বীজতলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়াসহ বিভিন্ন নদনদীর বেড়িবাঁধেও দেখা দিয়েছে ফাটল।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মৎস্যঘেরের ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ৪৯ হাজার টাকা।

সাতক্ষীরা পৌরসভার ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা আলীনুর খান বাবুল জানান, পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে মানুষ বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে।

তালতলী (বরগুনা) : উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায়ই দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। ফসলি জমির পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়িতেও প্রবেশ করেছে পানি। তালতলী মৎস্য ও কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় শত শত মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে আশ্রয় নিয়েছে।

মেনিপাড়া কৃষক মনেজ চৌকিদার বলেন, ভারী বৃষ্টিতে মরিচ, শসা, করলা, শিম ও মিষ্টিকুমড়ার খেতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ধানবীজ পানির নিচে ডুবে গেছে।

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পানত্রিশা এলাকায় ৫০/৬০ পরিবারের ৫ শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকা আউশ ধান।

কক্সবাজার : অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে জেলার নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছে জেলার ৪১ ইউনিয়নের ৪১৩ গ্রামের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ঘরের আসবাবপত্র, আবাদি জমি, মাছের পুকুর ও বসতঘরে পানি ঢুকে এসব অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর গত চার দিনে মাটির ঘরসহ পাহাড় ধস ও পানিতে ভেসে রোহিঙ্গাসহ ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. এখলাছ উদ্দিন বলেন, ‘৩ হাজার ৩২৮ হেক্টর আউশ ধানের মধ্যে ৪৯১ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে। ৮৬২ হেক্টর আমন বীজতলা, ৪ হাজার ১৭০ হেক্টর আমন রোপা, ৩৯৫ হেক্টর শাকসবজি, ২৪ হেক্টর পানের বরজ পানিতে প্লাবিত হয়েছে।’

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close