প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ০৫ মে, ২০২১

দাম্পত্য জীবনের ইতি টানছেন বিল-মেলিন্ডা

মাইক্রোসফট করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। এর এক যুগ পর আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হয়েছিল তাদের। ১৯৮৭ সালে চার চোখ প্রথম এক হয়েছিল। এরপর তারা সাত বছর প্রেম করেছিলেন। অতঃপর বিয়ে। কিন্তু যে পথ বেঁধে দিয়েছিল বন্ধন, তার বিচ্ছেদের ঘোষণা এলো গতকাল মঙ্গলবার। ‘দুজনার দুটি পথ দুটি দিকে গেল বেঁকে।’ দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন বিল ও মেলিন্ডা। টুইটার বার্তায় তারা এ ঘোষণা দিয়েছেন। এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা মানবহিতৈষী জগৎকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিল গেটস ও মেলিন্ডার সম্পর্কের শুরুটা ছিল পেশাভিত্তিক। ১৯৮৭ সালে প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে মাইক্রোসফটে যোগ দিয়েছিলেন মেলিন্ডা। ওই বছরই প্রতিষ্ঠানের একটি আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন তারা। এ ঘটনা ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে।

------
এরপর দুজনের সামনে এগিয়ে যাওয়া। শুরু হয় তাদের তুমুল প্রেম। নেটফ্লিক্সে প্রচারিত এক তথ্যচিত্রে বিল গেটস বলেছেন, ‘আমরা একে অপরের খুব খেয়াল রাখতাম। এখানে দুটি সম্ভাবনা ছিল। হয় আমাদের প্রেমে বিচ্ছেদ হবে, নয়তো আমাদের বিয়ে করতে হবে।’

মেলিন্ডা জানান, বিল গেটসকে একজন সুশৃঙ্খল মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করেছিলেন। এমনকি তাকে বিয়ে করার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিও দিয়েছিলেন বিল। এরপর প্রেম আরো গভীর হয়েছে। প্রেম শুরুর সাত বছর পর ১৯৯৪ সালে তারা বিয়ে করেন। হাওয়াই দ্বীপের লানাইয়ে হয়েছিল সেই আয়োজন। এরপর মাইক্রোসফট বড় হয়েছে। কিন্তু গত বছর তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরে যান, ব্যস্ত হয়ে পড়েন দাতব্য কাজে।

এজন্য ২০০০ সালেই অর্থাৎ অবসরের আগেই গড়ে তুলেছিলেন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই ও শিশুদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে এ ফাউন্ডেশন।

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বিশ্বের অন্যতম ধনী। তিন সন্তান রয়েছে তাদের। ফোর্বস সাময়িকীর তথ্য মতে, বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় বিল গেটস চতুর্থ অবস্থানে আছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ওয়ারেন বাফেটের সঙ্গে ‘দ্য গিভিং প্লেজ’ উদ্যোগে জড়িত। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের ধনীদের সম্পদের একটি বড় অংশ দাতব্য কাজে লাগানো।

বিল ও মেলিন্ডা বলেছেন, আমরা একসঙ্গে দম্পতি হিসেবে থাকতে পারব, এমনটা আর বিশ্বাস করি না। ২৭ বছরে আমরা অসাধারণ তিনটি সন্তান পেয়েছি। এমন একটা ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি, যে ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে মানুষকে স্বাস্থ্যকর ও সক্ষম করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমরা যে বিশ্বাস থেকে ওই ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু করেছি, সেটা থাকবে। এই ফাউন্ডেশনের কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাব। কিন্তু আমরা আর এটা বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমাদের জীবনের পরের ধাপে দম্পতি হিসেবে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close