বিনোদন প্রতিবেদক
দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি- সূচরিতা

বহু সিনেমায় যেমন নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে একসময় দেশের তরুণ দর্শকের মনে ঝড় তুলেছিলেন, আবার একটা সময় পেরিয়ে তিনি একের পর এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেও এই সিনেমাপ্রেমী দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। তবে এই সময়ে এসে তাকে আর আগের মতো সিনেমাতে দেখা না যাওয়ার কারণে দর্শক তাকে মিস করেন। এখনো তার ভক্ত দর্শকেরা তার অভিনীত নতুন সিনেমার জন্য প্রবল আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন। যদিও এই মুহূর্তে সূচরিতা নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করছেন না। তবে ইচ্ছে আছে ভালো গল্পের সিনেমাতে কাজ করার প্রস্তাব পেলে অভিনয় করার। রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে নিজের বাসাতেই সময় কাটে সূচরিতার। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে তিনি পেয়েছেন এ দেশের কোটি কোটি দর্শকের সীমাহীন ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাকে সঙ্গী করেই এখনো আনন্দময় সময় কাটে তার।
মুস্তাফিজের ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে শিশু চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন সূচরিতা। তখন তার নাম ছিল বেবি হেলেন। ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি শিশু চরিত্রে আরো অভিনয় করেন ‘নিমাই সন্নাসী’, ‘অবাঞ্চিত’, ‘রং বেরং’, ‘টাকা আনা পাই’, কত যে মিনতি’, ‘রাজ মুকুট’, ‘বাবলু’সহ আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে। নায়িকা হিসেবে আজিজুর রহমানের নির্দেশনায় ‘স্বীকৃতি’, দীলিপ বিশ্বাসের ‘সমাধি’ এবং অশোক ঘোষের ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে পরপর অভিনয় করেন। তবে ১৯৭৭ সালে প্রয়াত আব্দুল লতিফ বাচ্চুর ‘জাদুর বাঁশী’ সিনেমাতে তার অভিনয় তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। এরপর থেকে একে একে তিনি তিনশো সিনেমাতে অভিনয় করেন। সূচরিতার নিজের অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বজ্রমুষ্ঠি’ সিনেমার ‘জীবনে একজন প্রিয়জন সবারই প্রয়োজন’, ‘আঁখি মিলন’ চলচ্চিত্রের ‘আমার গরুর গাড়িতে’ এবং ‘জাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রের ‘আকাশ বীনা চাঁদ’, ‘জীবন নৌকা’ সিনেমার ‘তুমিতো এখন আমারই কথা ভাবছো’ ‘মহেশখালীর বাঁকে’র ‘আমার প্রেমের তরী বইয়া চলে’, ‘মেঘ বৃষ্টি বাদল’ সিনেমার ‘ও বন্ধুরে প্রাণও বন্ধুরে’ গান পাঁচটি ব্যাপক জনপ্রিয়।
অভিনয় জীবনের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে সূচরিতা বলেন, ‘সেই ছোট্টবেলা থেকে সিনেমাতে অভিনয় করছি আমি। পরিণত বয়সে এসে নায়িকা হয়েও বহু সিনেমাতে অভিনয় করেছি। বারবার দর্শকের ভালোবাসায় নিজেকে সিক্ত করেছি। আবার যখন সিনেমাতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি তখনো দর্শক আমার চরিত্রগুলোকে নিয়ে আবেগে মেতেছেন। এই যে দর্শকের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এটাইতো এক জীবনে অনেক বড়প্রাপ্তি। আবার আমি মনে করি একজন শিল্পী যতদিন সুস্থ থাকেন, সচেতন থাকেন, ভালো থাকেন ততদিনই তিনি অভিনয় করে যেতে পারেন। শিল্পীদের কোনো অবসর নেই। তাই আমি যতদিন অভিনয় করবো ততদিন যেন আমাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা না দেওয়া হয়।’
"









































