আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে মার্কিন প্রভাব নিয়ে উদ্বেগে চীন

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি কাঠমান্ডুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সেখানে পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালকে বলেন, দূরের আত্মীয়ের চেয়ে কাছের প্রতিবেশীই ভালো। চার দিনের সরকারি সফরে চীনে থাকা খানাল সোমবার রাতে বেইজিংয়ে ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।
ওয়াং ই বলেন, ‘দূরের আত্মীয়ের চেয়ে কাছের প্রতিবেশী ভালো। চীন সবসময় নেপালের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হয়ে থাকবে।
বৈঠকে উপস্থিত নেপালের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াংসহ চীনা নেতারা নেপালে পশ্চিমা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য সংস্থা মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ করপোরেশন (এমসিসি) এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচি স্টেট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ছিল। বেইজিং থেকে ফোনে কথা বলা ওই নেপালি কর্মকর্তা দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, ‘চীনা পক্ষের বক্তব্য ছিল, বাইরে থেকে এই মার্কিন উদ্যোগগুলো ইতিবাচক মনে হলেও এর উদ্দেশ্য ভালো নয়। এসব উদ্যোগ শুধু চীনের জন্য সমস্যা তৈরি করে।’
বৈঠকে খানাল নেপালের উত্তর সীমান্তকে মধ্যাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চারটি করিডর উন্নয়নের প্রস্তাব দেন। এতে আন্তঃহিমালয় রেলপথ প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি হুমলা জেলার হিলসা এলাকার কাছাকাছি পশ্চিম নেপাল থেকে নতুন আকাশপথেরও অনুরোধ জানান। সীমান্ত বিরোধ নিয়ে খানাল ওয়াংকে বলেন, লিপুলেখ ইস্যু নেপাল ও ভারতের মধ্যে আলোচনার বিষয় হলেও ভারত ও চীনের মধ্যে বারবার হওয়া সমঝোতা এই বিরোধকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, পোখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে, এ বিষয়েও বেইজিং উদ্বেগ প্রকাশ করে। জবাবে খানাল জানান, নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলাটি আদালতে দায়ের করেছে এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নেপাল ও চীনের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা বিষয়ক প্রটোকল সই হওয়ায় সরকার অভিযোগপত্র চীনা পক্ষকে দিতে প্রস্তুত, যাতে অভিযোগগুলো পরিষ্কার করা যায়।
"






































