আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মিত্রদের খেপিয়েছেন ট্রাম্প, জবাব পেতে পারেন জি-৭ সম্মেলনে

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোর জোট জি-৭-এর সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের হ্রদ-বেষ্টিত এভিয়ান-লে-বাঁ রিসোর্টে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মনোরম ও শান্ত এই পরিবেশের আড়ালে এবারের সম্মেলনে এক উত্তপ্ত ও বৈরী পরিস্থিতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
গত কয়েক মাসে জোটের প্রায় প্রতিটি সদস্য দেশের নেতার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্প তাঁর সহযোগী নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন, যার ফলে পুরোনো ক্ষোভগুলো নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ক্ষোভের মূল কারণ হলো- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে মিত্র দেশগুলোর অনীহা। গত সপ্তাহান্তে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর, এই ইরান যুদ্ধ ইস্যুটিই এখন সম্মেলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, জি-৭-এর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের এই বৈরী সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। তাঁর প্রথম মেয়াদের সম্মেলনগুলো থেকেই এই উত্তেজনা চলে আসছে। অতীতে মার্কিন মিত্ররা ট্রাম্পের এসব আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও আচরণকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, এবার অনেক নেতাই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছেন।
এবারের সম্মেলনের আয়োজক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় দীর্ঘদিনের। ফলে তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কটি সবচেয়ে জটিল মোড় নিয়েছে। কখনো ট্রাম্প মাখোঁকে সম্মান জানিয়ে মন্তব্য করেন, আবার পরদিনই মাখোঁর ব্যক্তিগত জীবন বা তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করতে ছাড়েন না।
দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পকে সামলানোর ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার জন্য গর্ববোধ করলেও, সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্টকে তাঁর মার্কিন সমকক্ষের আচরণে বেশ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে।
গত বছর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক বেশ ইতিবাচকভাবেই শুরু হয়েছিল, যা কার্নির পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর আমলের তিক্ততার তুলনায় অনেক ভালো ছিল। তবে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধ এবং চলতি বছরের শুরুতে দাভোসে কার্নির একটি জোরালো বক্তব্যের পর ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। সম্প্রতি ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে কার্নিকে ‘গভর্নর কার্নি’ বলে সম্বোধন করতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, ইউরোপের নেতাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করেছিলেন। গত বছরের বেশিরভাগ সময় তা কাজ করলেও, ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন দিতে স্টারমারের অস্বীকৃতি এই সম্পর্কে ফাটল ধরায়। এখন ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘উইনস্টন চার্চিল নন’ বলে উপহাস করছেন।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিশ মার্জ হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার সময় তাঁর জার্মান বংশোদ্ভূত দাদার জন্ম সনদ নিয়ে এসে এক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিলেন। তবে ট্রাম্পের প্রিয় ইউরোপীয় নেতাদের তালিকায় মার্জের অবস্থান বেশিক্ষণ টেকেনি। জার্মানি ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন ‘ইরানি নেতৃত্বের কাছে অপমানিত হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করার পর এই দূরত্ব তৈরি হয়।
এমনকি ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের অসন্তোষ থেকে রেহাই পাননি। ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ট্রাম্পের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে পোপ লিও চতুর্দশের ওপর ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেলোনি একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। এর জবাবে ট্রাম্পও মেলোনির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন।
জি-৭ জোটের নতুন সদস্য জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সরাসরি ক্ষোভ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছেন। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে তাকাইচি ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত যোগাযোগ তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন।
"





































