আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে উড্ডয়নের পরপরই বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সবাই

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে স্কাইডাইভিং করতে যাওয়া একটি বিমান একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়। ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে স্কাইডাইভিং করতে যাওয়া একজন পাইলট ও ১১ জন যাত্রীসহ একটি বিমান একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে আগুনে পুড়ে যায়। এতে বিমানটির সবাই নিহত হন। রবিবার স্থানীয় সময় সকালে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি মাঠে বিমানটি আছড়ে পড়ে আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
বেটস কাউন্টির শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন বলেন, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের কয়েকজনের স্বজন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও জানান তিনি। শেরিফ অ্যান্ডারসন জানান, ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর বিমানটির নীল ও রুপালি রঙের ধ্বংসাবশেষ মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক জরুরি সেবার যান মোতায়েন করা হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং স্বজনদের অবহিত করার কাজ চলছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ঘটনাস্থলে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) একটি তদন্ত দল সেখানে যাওয়ার পথে ছিল।
বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক এবং বেটস কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার পরিচালক ডেনিস জ্যাকবস জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন বিমানটি পরিচালনা করছিল স্কাইডাইভ কানসাস সিটি। এটি ছিল এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমান।
জ্যাকবসের ভাষ্য, উড্ডয়নের পর বিমানটি বাঁ দিকে মোড় নিয়েছিল। তার ধারণা, বিমানটি শক্তি হারাচ্ছিল এবং পাইলট সড়কের দিকে নিয়ে গিয়ে অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নাক বরাবর মাটিতে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। জ্যাকবস ঘটনাস্থলকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন। উড্ডয়নপথের নিচে তল্লাশি চালিয়েও এমন কাউকে পাওয়া যায়নি, যিনি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগে লাফিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
মিসৌরি হাইওয়ে প্যাট্রোলের সার্জেন্ট জাস্টিন ইউইং বলেন, দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। এনটিএসবির তদন্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে রবিবারের দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে এনটিএসবির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ ধরনের তদন্ত শেষ হতে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটি ছিল প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস ৭৫০এক্সএল মডেলের। স্কাইডাইভিংয়ের পাশাপাশি মালামাল পরিবহন, আকাশ জরিপ এবং চিকিৎসার কাজেও এই মডেলের বিমান ব্যবহৃত হয়। এফএএর নথি অনুযায়ী, বিমানটি ২০১০ সালে নির্মিত হয়েছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে রবিবার বিমানটি দুটি স্বল্প দূরত্বের সফল ফ্লাইট সম্পন্ন করেছিল। শনিবার দুটি এবং শুক্রবার পাঁচটি সফল ফ্লাইটও পরিচালনা করা হয়েছিল।
"





































