প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

যুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়ার শঙ্কা ছিল ট্রাম্পকে নিয়ে!

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে ক্যাপিটল হিলে আক্রমণের পর ক্ষ্যাপা ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো কি না কি করে বসেন, সেই শঙ্কা থেকে নজিরবিহীন এক তৎপরতা দেখিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ জেনারেল। ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দিতে পারেন- এমন আশঙ্কায় গোপনে চীনা জেনারেলের সঙ্গে ফোনে দুবার কথা বলেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, এমন নানা আশঙ্কায় ট্রাম্পের ক্ষমতা গোপনে ‘ছেঁটে দিয়েছিলেন’ ওই জেনারেল। ওই জেনারেল হচ্ছেন ট্রাম্পেরই তৎকালীন সামরিক উপদেষ্টা ও সামরিক বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মার্ক মিলি।

ক্ষমতার শেষ সময়ে ট্রাম্পের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন একটি বইয়ে এসব কথা উঠে এসেছে। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ফাঁস করে জীবন্ত কিংবদন্তি বনে যাওয়া সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড এবং ওয়াশিংটন পোস্টের খ্যাতনামা সাংবাদিক রবার্ট কস্টা বইটি লিখেছেন। বিভিন্ন সূত্রের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে লেখা বইটি প্রকাশ হবে আগামী সপ্তাহে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট ও আলজাজিরার।

বইয়ে উডওয়ার্ড ও কস্টা লিখেছেন, ভোটে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প উন্মাদ হয়ে পড়েছেন বলেই মনে করছিলেন জেনারেল মিলিসহ অনেকে। ২০২০ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প হেরে যাওয়ার পরও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন। এরই একপর্যায়ে ট্রাম্প সমর্থকরা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ক্যাপিটল হিল ভবনে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত ওই হামলায় ট্রাম্পের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

লেখক লিখেছেন, ক্যাপিটল ভবনে হামলায় জেনারেল মিলি বড় ঝাঁকুনি খেয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে ভোটে হার মানতে না পেরে ট্রাম্পের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছেন, অনেকটা উন্মাদের মতো হয়ে পড়েছেন।

তার এমন শঙ্কাও ছিল যে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া ঠেকাতে ট্রাম্প কারো সঙ্গে যুদ্ধও বাঁধিয়ে দিতে পারেন। এরই মধ্যে তিনি চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির জেনারেল লি জুচেংয়ের ফোন পান। মার্কিন ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার দুদিন পর ৮ জানুয়ারি ওই ফোনালাপে মিলি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা স্থিতিশীল আছে ও তারা আক্রমণ করতে যাচ্ছেন না। আর যদি আক্রমণ হয়ও তিনি লি’কে আগে সতর্ক করে দেবেন।

ট্রাম্প চীনে সেনা অভিযান চালানো কিংবা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে দিতে পারেন, এমন শঙ্কা থেকে নিজের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন জেনারেল মিলি।

বইয়ে আরো বলা হয়েছে, মিলি তৎকালীন সিআইএ পরিচালক জিনা হ্যাস্পেল এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান পল নাকাসোনসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। ট্রাম্প অযৌক্তিক কিছু করতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যে সতর্ক থাকার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। হ্যাস্পেলকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে ‘খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি’।

একই ধরনের আশঙ্কা থেকে মিলির কাছে ফোন আসে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির কাছ থেকেও। পেলোসি মিলিকে ফোনে বলেছিলেন, ক্যাপিটলে যিনি হামলা করাতে পারেন, তিনি যে আরো কত কী করতে পারেন, তার কি কোনো ঠিক আছে?

পেলোসির সঙ্গে মিলির ফোনালাপের একটি প্রতিলিপি পেয়েছেন সাংবাদিক উডওয়ার্ড ও কস্টা। আর সেই ফোনালাপে সেনাপ্রধান বারবার স্পিকারকে আশ্বস্ত করছিলেন যে পরমাণু অস্ত্র নিরাপদেই রয়েছে।

দুই শতাধিক সাক্ষাৎকার, প্রত্যক্ষদর্শী, আর ঘটনায় জড়িত থাকা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার শেষ দিনগুলো নিয়ে বইটি লিখেছেন উডওয়ার্ড ও কস্টা। শুধু তাই নয়, তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হতে নানা দলিল, ডায়েরি, ই-মেইল, ফোনালাপের প্রতিলিপি, সভার কার্যপত্রও খতিয়ে দেখেছেন তারা।

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প গল্পটিকে ‘সাজানো’ অবহিত করে সন্দেহ পোষণ করেন। তিনি কখনো চীন আক্রমণের চিন্তা করেননি বলেও উল্লেখ করেন। তবে এ বিষয়ে মিলি কোনো মন্তব্য করেননি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close