গাজী শাহনেওয়াজ

  ১৪ অক্টোবর, ২০১৭

সাবেক কমিশনারদের সঙ্গে ইসির সংলাপ ২৪ অক্টোবর

সংলাপে আমন্ত্রণ পেল সেই বিতর্কিত আজিজ কমিশন

ব্যাপক সমালোচনা ও আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করা সেই আজিজ কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজ, তার কমিশনসহ ১৭ জন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ইসি সংলাপে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন সিইসি ও ১২ জন নির্বাচন কমিশনার। সোয়া এক কোটি ভুয়া ভোটার তালিকাসহ ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ব্যাপক তোপের মুখে পড়ে সেই সময়ের এই নির্বাচন কমিশন। এদিকে এই আমন্ত্রণ নিয়ে রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আগামী ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় সংলাপে সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের মুখোমুখি হবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত রোডম্যাপ ও নির্বাচনী আইন সংস্কার বিষয়ে এসব অভিজ্ঞ অংশীজন সংলাপে তাদের মতামত তুলে ধরবেন। খবর ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাবেক সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে জীবিত রয়েছেন, এমন সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তা ছাড়া কয়েকজন বিশেষজ্ঞের নামও যোগ করা হতে পারে। কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের ইসি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যোগ দেয়। নির্বাচন কমিশনে এর আগে ১১ জন সিইসি ও ২৩ জন নির্বাচন কমিশনার ছিলেন।

ইসি সূত্রমতে, আলোচিত-সমালোচিত সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি এম এ আজিজ ও তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা চার কমিশনারকে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সংস্কার কমিশন হিসেবে পরিচিত ১/১১ পুনর্গঠিত কমিশন এ টি এম শামসুল হুদা এবং পরবর্তীতে একতরফা ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচন সম্পন্ন করা বিদায়ী কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন তাদের অগ্রজ আজিজ কমিশনকে কোনো ধরনের সংলাপে আমন্ত্রণ জানায়নি।

অথচ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়া খান মো নুরুল হুদার কমিশন সাবেক সব নির্বাচন কমিশনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইসির আমন্ত্রণে আজিজ কমিশন সাড়া দিলে দীর্ঘ ১০ বছর আগের রচিত ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ তৈরি হবে। ইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১০ বছরের আগে রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি ভোটের জন্য তফসিলও ঘোষণা করেছিল এম এ আজিজ কমিশন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিলে সংকটে নতুন মাত্রা পায়।

ওই কমিশনের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল, সোয়া এক কোটি ভুয়া ভোটার করে বিএনপিকে বিজয়ী করার চক্রান্ত করেছিল তারা। পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুর্বার আন্দোলনের মুখে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ফখরুদ্দীন আহমদ। পরে ওই ভোটের তফসিল বাতিল করা হয়। ২১ জানুয়ারি সিইসি এম এ আজিজ এবং ৩১ জানুয়ারি বাকি পাঁচ কমিশনারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আজিজ কমিশন অধ্যায়ের ইতি ঘটে। বিতর্ক ওঠায় হয়তো পরবর্তী সময় আজিজ কমিশনের কোনো সদস্যকে কখনো গণমাধ্যম ও সভা- সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে দেখা যায়নি।

ইসির আগামী ২৪ অক্টোবর নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সাবেক সিইসি, নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। সিইসি বিচারপতি এম এ আজিজ ছুটিতে যাওয়ায় ওই ইসিতে নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মাহফুজুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সিইসি ছিলেন। অপর চারজন নির্বাচন কমিশনার ছিলেন স ম জাকারিয়া, মাহমুদ হাসান মনসুর, মুদাব্বির হোসেন চৌধুরী ও মো. সাইফুল আলম।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এম এ আজিজ কমিশনের সদস্যরা কখনো কোনো আলোচনায় অংশ নেন না। ২০০৭-২০১২ মেয়াদের এ টি এম শামসুল হুদা ও ২০১২-২০১৭ কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনও তাদের সংলাপে ডাকেনি। তবে বর্তমান কমিশন এবার সমালোচনা এড়াতেই ২০০৫-২০০৭ সালের আজিজ কমিশনের সদস্যদের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে।

আমন্ত্রিতরা হলেন-সিইসি বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ, মোহাম্মদ আবু হেনা, বিচারপতি এম এ আজিজ, এ টি এম শামসুল হুদা ও কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। এসব সাবেক কমিশনের প্রধানদের কাছে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠি ও প্রস্তাবিত রোডম্যাপসহ সংলাপের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সংলাপে আমন্ত্রণ পাওয়া সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে রয়েছেন-এম এম মুনসেফ আলী, এ কে মোহাম্মদ আলী, স ম জাকারিয়া, মো. সাইফুল আলম, মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী, মাহমুদ হাসান মনসুর, মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, এম সাখাওয়াত হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজ। এই ১২ নির্বাচন কমিশনারের আবাসিক ঠিকানায় আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান ইসির কর্মকর্তারা। এদিকে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসার আগে ২২ অক্টোবর পর্যবেক্ষক এবং ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি। এর মধ্য দিয়ে ৩১ জুলাই থেকে অক্টোবরব্যাপী সংলাপ শেষ করবে ইসি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, পর্যবেক্ষক সংস্থার ৩৩ জন প্রতিনিধি এবং নারী নেত্রী ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ২২ জনকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইসির আমন্ত্রিত ৩৩ পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন-মো. সামসুল হক, প্রকৌশলী শেখ আল আমিন, নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, শাহজাহান গাজী, মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী, শারমিন মুর্শিদ, আনোয়ার হোসেন, এ এন এম ইমাম হাসনাত, সাইফুল ইসলাম দিলদার, কামরুল হাসান মঞ্জু, শেখ আবদুল মালেক, তালেয়া রহমান, মুনিরা খানম, মিজানুর রহমান, এ এইচ এম নোমান, নোমান আহমেদ খান, রেজাউল করিম চৌধুরী, রোখসানা খন্দকার, মো. আবদুল আলীম, শফিকুল ইসলাম, সাকিব আহমেদ বশার, স্বপন গুহ, বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, এস এম হারুন অর রশীদ লাল, শহীদুল ইসলাম, আলাউদ্দিন খান, এ কে আরজু, শামিমা ইয়াসমিন, হারুন অর রশীদ, সেলিমা সারওয়ার, সরদার হুমায়ুন কবির, এনজেলা গোমেজ ও খন্দকার আলমগীর হোসাইন। ইসির আমন্ত্রিত নারী নেত্রীরা হলেন-হামিদা হোসেন, রোকেয়া কবির, আয়েশা খানম, সেলিনা হোসেন, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, অ্যারোমা দত্ত, সেলিনা আহমেদ, সালমা আলী, মনিরা রহমান, অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম, ওয়াহিদা বানু, সালমা খান, ফরিদা ইয়াসমিন, রেহানা সামদানী, রোকেয়া রফিক, পারভীন সুলতানা ঝুমা, মাহবুবা বেগম, রেহানা সিদ্দিকী, মাসহুদা খাতুন শেফালী, শাহীন আক্তার ডলি, শার্মিনা জামান ও মনসুরা আক্তার। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন সংস্কার, সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে কে এম নুরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করছে।

গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপ শেষ করেছে ইসি। এরপর ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় শুরু করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist