আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

  ৪ ঘণ্টা আগে

প্রকৃতি

সোনারগাঁয়ে মায়াদ্বীপ যোগাযোগ বিছিন্ন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের রঘুনারচর, সবুজবাগ, চুয়াডাঙ্গা, টেকপাড়া, গুচ্ছগ্রামসহ ৭টি গ্রাম নিয়ে মায়াদ্বীপ নুনেরটেক একটি অবহেলিত জনপদ। নুনেরটেক মায়াদ্বীপের সাতটি গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। চারদিক থেকে মেঘনা নদী বেষ্টিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে মায়াদ্বীপ নুনেরটেক সোনারগাঁয়ের মূল ভূখণ্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। এই দ্বীপটিতে কোনোরকম সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শহর বন্দরে যোগাযোগ রক্ষায় যুগ যুগ ধরে নদী পারাপারে নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা।

শুষ্ক মৌসুমে পুরো নুনেরটেক এলাকাটি সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা এক মনোরম পরিবেশ নয়নাভিরাম ছবির মতো ও দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ সেখানকার বসতিদের জীবন-যাপনের অনুষঙ্গ। নুনেরটেক মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা হলেও সেখানে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস হলো মাছধরা ও বিক্রি করা। সারা বছরই মৎস্য খাত থেকে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় হয়। বর্ষাকালে প্রতিটি পরিবার মাছ বিক্রি করে গড়ে দৈনিক ২-৩ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। ইঞ্জিনচালিত নৌকাও তাদের আয়ের আরেকটি উৎস। মাছ ও ধানে ভরা সবুজে ঘেরা সুখের স্বপ্ন ফেলে দ্বীপ ছেড়ে যেতে মন চায় না তাদের। তাইতো তাদের জীবনধারার সঙ্গে সারা বছরই মেঘনার রূপালি ঢেউ আর ঝড় ঝনঝাট মিলেমিশে একাকার। অপরদিকে বর্ষায় চারদিকে মেঘনার থৈ থৈ জলরাশি, তীব্র ¯্রােত ও ঝড় তুফানে ব্যাপক ভাঙন আতঙ্কে নিদ্রাহীন রাত কাটে মায়াদ্বীপবাসীর। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে নদীর ঢেউ আছড়ে ভাঙনের শিকার হচ্ছে শত শত পরিবার। বাসিন্দাদের অনেকেই নানা প্রতিকূলতার কারণে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে বসতি স্থাপন করছেন। নুনেরটেকে কৃষকদের উৎপাদিত হাজার হাজার একর জমির ফসল পরিবহনে যুগ যুগ ধরে সীমাহীন ভোগান্তি আর কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। কৃষকদের দুর্ভোগ রোধে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের উৎপাদিত ফসল শহর-বন্দরে পাঠাতে, পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে সড়ক যোগাযোগ ও একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। একটি সেতুই হয়ে উঠবে নুনেরটেক মায়াদ্বীপের বাসিন্দাদের উন্নত জীবনমানের একমাত্র অবলম্বন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীর ভাঙন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবন-যাত্রায় প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের মুগ্ধতা ছড়ানো নুনেরটেক মায়াদ্বীপের মায়াই থেকে যেতে চান সেখানকার মানুষ। নুনেরটেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান শেষে অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়ে। তাদের ভাগ্যে জোটে না ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় কিছু হওয়ার। এখানকার মানুষের জীবন উন্নয়নে শুধু দরকার একটি বেড়িবাঁধ ও নদীর উপর একটি সেতু। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যরা নুনেরটেক মায়াদ্বীপ এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের কবলে পড়ে মানুষের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৫ বছরে ওই এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ওসমান গনি বলেন, নুনেরটেক এলাকাটি ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ ও যাতায়াত সুবিধার জন্য মেঘনা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি। বিগত ৩৫ বছর ধরে সোনারগাঁ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যরা নুনেরটেক মায়াদ্বীপ ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও বাঁধ নির্মাণ হয়নি। বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল জানান, চারদিক নদী বেষ্টিত হওয়ায় নুনেরটেক ভৌগোলিকভাবে সোনারগাঁয়ের মূল ভূখণ্ড থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই ভাঙনের কবলে পড়ে মানুষের ফসলি জমি ও অনেক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নুনেরটেক মায়াদ্বীপের বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্যরা কয়েক দফা প্রতিশ্রুতি দিলেও অদ্যাবধি নুনেরটেক রক্ষায় কেউ বাঁধ নির্মাণ করে দেয়নি। বর্তমান সংসদ সদস্যের নিকট ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য নতুনভাবে প্রস্তাবনা দাখিল করা হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়