reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মেয়রের উন্নয়ন ভাবনা

পর্যটকবান্ধব পৌরসভা গড়ার প্রত্যয় আনোয়ারের

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকটা। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট। বঙ্গোপসাগরের ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিশাল সমুদ্রসৈকত পৃথিবীর বিরল। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সব ঋতুতেই মৌসুমি পাখিদের কলরবে মুখোরিত থাকে সমুদ্রতট। একমাত্র কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে এসেই প্রকৃতির সৃষ্ট সাগরের নানা রূপ বিভিন্ন ঋতুতে উপভোগ করা সম্ভব। ২০১০ সালে সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি মো. আনোয়ার হোসেন কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। প্রতিদিন সংবাদকে পৌর মেয়র বলেছেন তার স্বপ্নের কথা। তিনি চান কুয়াকাটা পৌরসভা হবে নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন ও পর্যটকবান্ধব। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জহিরুল ইসলাম

মেয়র বলেন, পৌরসভাকে নিয়ে সবাই স্বপ্ন দেখেন। করোনা অতিমারির মধ্যে মেয়রের দায়িত্বকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখি পৌরবাসী নানা সমস্যায় জর্জরিত। অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা, পানির লাইন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থা, পর্যটকদের জন্য পাবলিক টয়লেটসহ নানাসমস্যায় ডুবে আছে পৌরসভাটি। ২০১৭ সালে আমার আগের মেয়র ১৩ কিলোমিটার ড্রেন প্রকল্পের কাজ শুরুকরেন। ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে কাজটি শেষ করেন মাত্র ৪ কিলোমিটার। আমি মেয়র হওয়ার ৬ মাসের মাথায় ৫ কিলোমিটার ড্রেনের কাজ শেষ করেছি।তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করতে না পারায় বাকি ৪ কিলোমিটার কাজ বাদ হয়ে যায়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পৌর পিতা বলেন, যেহেতু এইটা পর্যটনকেন্দ্রিক পৌরসভা তাই দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটনপিপাসুরা যেন বছরের বিভিন্ন ঋতুতে বারবার এখানে ছুটে আসেন সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। পর্যটকদের সুবিধার্থে সাগর পাড়ে ১৫০০ স্কয়ার ফিটের ৮টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক মানের একটি বাসস্ট্যান্ডের কাজও চলছে।

১৯৭০ সাল থেকে বেড়িবাঁধের বাইরে একটি পরিত্যক্ত জলাশয় ছিলমশা উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল। পর্যটকদের কথা চিন্তা করে জলাশয়টিকে খনন করে মিঠাপানির পুকুর করি। সেখানে একই সঙ্গেপ্রায় সহস্রাধিক পর্যটক গোসল করতে পারবেন। এছাড়া জলাবদ্ধ মাঠটি ভরাট করে একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক করার কাজ চলছে। আশা করি পার্কটি ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়বে।

মেয়র আনোয়ার আরো বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয়ে কুয়াকাটায় ছিন্নমূল মানুষের বসবাসের কোনো স্থায়ী ঠিকানাছিলনা। এমনকি মৃত্যুবরণ করলেও দাফনের ব্যবস্থা ছিলনা। তাদের জন্য কবরস্থান নির্মাণ করা হয়েছে।

পৌরসভবাসীর জন্য প্রথম যে দুটি লক্ষ্যপূরণ করতে চেয়েছি সেটি হলো কাঁচা রাস্তা পাকা করা এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণ। এরই মধ্যে ১০টি রাস্তার কার্পেটিংসহ নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে আশা করি সব কাঁচা রাস্তা পাকা করতে পারব ইনশাআল্লাহ। জলাবদ্ধতার সমস্যাও সমাধান হয়েছে।আধুনিক অডিটরিয়াম, আধুনিক শপিংমল, নান্দনিক পার্ক, বর্জ্য ব্যবস্থার জন্য ডাম্পিং, ঈদগাহ মাঠ, শহীদ মিনার, ৮টি ওয়ার্ডে ৮টি কবরস্থান, প্রায় ২০টি মাটির রাস্তা নির্মাণ, ২৬ কিলোমিটার খাল খননসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প পৌরবাসীর নজর কেড়েছে। আশা করি বর্তমান সরকার সারা দেশে উন্নয়নের যে ধারা অব্যাহত রেখেছে কুয়াকাটা পৌরসাভার উন্নয়নেও তা অব্যাহত থাকবে। আমি সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে বিশ্বমানের নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। আর এক্ষেত্রে প্রয়োজন জনগণের ভালোবাসা।

 

আগামীকাল পড়ুন

 

জামালপুর পৌর মেয়রের কথা

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close