নিজস্ব প্রতিবেদক
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ১৫৩ সিনিয়র অফিসারের অভিষেক

বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১৫৩ জন সিনিয়র অফিসারের ওরিয়েন্টেশন (অভিষেক) অনুষ্ঠান গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একাডেমির শহিদ এলাহী বক্স অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএডব্লিউসি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মীর মোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরবর্তীতে এক বিশেষ সেশনে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক কাঠামো, করপোরেট মূল্যবোধ, সেবাদর্শন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সম্যক ধারণা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক শুধু একটি প্রথাগত আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের প্রায় ৬১ লক্ষ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের আর্থ-সামাইজক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি বাহিনীর মূল আদর্শের সঙ্গে ব্যাংকের মিশন ও ভিশনের সমন্বয় ঘটিয়ে সততা, স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, কর্মকর্তাদের শুধু প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্য বিশ্লেষণ (Data Analytics) এবং গ্রাহকসেবামুখী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকের সেবার মান বাড়াতে নিয়মিত আত্মউন্নয়ন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং আজীবন শিক্ষার মানসিকতা ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তরুণ কর্মকর্তাদের এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
চেয়ারম্যান মহোদয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, একজন ব্যাংকারের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তাঁর সততা ও নৈতিকতা। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আইন, বিধি-বিধান ও নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকের প্রতি আনুগত্য, দলগত কর্মস্পৃহা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নবনিযুক্ত কর্মকর্তারা ব্যাংকের সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রায় দেশপ্রেম, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথি তাঁদের অর্জিত জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ কর্মনিষ্ঠাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের উন্নয়ন, গ্রাহকসেবার উৎকর্ষ এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে কার্যকর অবদান রাখার আহ্বান জানান।
উক্ত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক, উপমহাব্যবস্থাপক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পিডিএস/এমএইউ









































