কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি
কর্ণফুলী কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ১৭৯ মেগাওয়াট, সরবরাহ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রদের পানির এই পর্যাপ্ততা কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে চাঙা করে তুলেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে আরও ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাপ ছিল ৯০.৩১ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রুলকার্ভ (হ্রদের পানির স্বাভাবিক পরিমাপের নির্দেশিকা) অনুযায়ী ৮৫.৪৪ এমএসএল পানি থাকার কথা ছিল। অর্থাৎ, বর্তমানে রুলকার্ভের তুলনায় হ্রদে প্রায় পাঁচ ফুট বেশি পানি মজুদ রয়েছে। হ্রদের মোট সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পানির এই বৃদ্ধি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য খুবই ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উৎপাদন বাড়ল ৩৫ মেগাওয়াট: পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যবস্থায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
উৎপাদনের ধারাবাহিকতা: গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু করার মাধ্যমে ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।
সর্বশেষ তথ্য: শুক্রবার সকাল থেকে পানির স্তর আরও অনুকূলে আসায় উৎপাদন ক্ষমতা আরও ৩৫ মেগাওয়াট বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৯ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ও চ্যালেঞ্জ: কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে ১৭৯ মেগাওয়াট উৎপাদিত হলেও, হ্রদে পানির স্তর ১০৯ এমএসএল-এর কাছাকাছি পৌঁছালে কেন্দ্রটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় (২৪২ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করে বলেন, "গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে হ্রদের পানির স্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে। আমরা পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে যাচ্ছি।"
জাতীয় গ্রিডে প্রভাব: কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিশেষ করে পিক আওয়ারে যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তখন এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরবরাহ লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করে। হ্রদে পানির এই পর্যাপ্ততা আসন্ন সপ্তাহগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে পাহাড়ি ঢলের সাথে সাথে হ্রদে পলি জমে যাওয়ার ঝুঁকি এবং পানির স্তর দ্রুত বাড়লে বাঁধের নিরাপত্তার দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বর্ষা মৌসুমের অবশিষ্ট সময়ে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক থাকলে হ্রদটির পানির স্তর সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকবে, যা আগামী শুষ্ক মৌসুমেও বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে।









































