পদ্মা ও পায়রা সেতু প্রকল্প পরিদর্শন করলেন সেতু বিভাগের সচিব

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতকে বিশ্বমানের, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার কর্মযজ্ঞ এখন দৃশ্যমান। এই কর্মযজ্ঞ সরেজমিনে দেখলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি পদ্মা সেতু সাইট অফিস এবং কচুয়া-বেতাগী সড়কে পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব এবং প্রকল্প মনিটরিং টিমের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন সেখ, প্রকল্প পরিচালক, পদ্মা সেতু সাইট অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক, উপপ্রকল্প পরিচালক, সাইট অফিসের কর্মকর্তা, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কচুয়া-বেতাগী সড়কে পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর সেতু সচিব এবং অতিরিক্ত সচিব সাইট অফিস প্রাঙ্গণে বৃক্ষের চারা রোপণ করেন এবং সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় প্রকল্প পরিচালক সচিবকে জানান যে, ২০২৬ সালে প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত ১,০০০টি বৃক্ষ রোপণের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ২,০০০টি বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, পদ্মা সেতু এলাকায় ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ১৫,০০০টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৭,৬২২টি বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট বৃক্ষরোপণের কাজ চলমান রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে এক বক্তব্যে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতকে বিশ্বমানের এবং আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অবকাঠামোতে রূপান্তরের যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী আমাদের সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলে ইটিসি (ETC) বা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার জন্য যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন, তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
সচিব সেতু বিভাগ আরও বলেন, “শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা যে সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি, তা কেবল বৃক্ষরোপণ নয়, বরং একটি বসবাসযোগ্য টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার। ২০২৬ সালের জন্য প্রকল্প এলাকায় সেতু বিভাগের নির্ধারিত বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হওয়ায় প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে কাজের গতি কমিয়ে আনা যাবে না; অবশিষ্ট বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত কার্যক্রমসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অত্যন্ত সতর্কতা ও যত্নের সাথে সম্পন্ন করতে হবে।”
পরবর্তীতে প্রকল্পের সাইট অফিসের সম্মেলন কক্ষে সেতু সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালকের সভাপতিত্বে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক এক সভা হয়। সভায় তিনি প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। এ সময় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচিব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেতুর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সচিব বলেন, সেতুর টোল ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার জন্য ইটিসিটি সেবাকে সর্বজনীন করতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমাতে এবং টোল কালেকশনকে আরও বেগবান করতে যে সব কারিগরি পরিবর্তন প্রয়োজন, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করার নির্দেশনা প্রদান করা হলো। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার থাকবে কিন্তু গ্রাহক সেবা হবে সহজতর।
দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং পরিবেশের সবুজায়নসহ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে Unified National ETC Framework (UNEF) ও অন্যান্য জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও নিরলসভাবে কর্মরত।









































