স্বাস্থ্যবিধি মান্যতায় কড়াকড়িই কাম্য

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৪১

সম্পাদকীয়

করোনা মহামারি এখনো থামেনি। বিপরীতে বলা যায়, দ্বিতীয় ঢেউ অত্যাসন্ন। আমাদের দেশে শুরু না হলেও বিশ্বের নানা প্রান্তে তা আছড়ে পড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রের একটি অংশ। তাই আমরাও এর বাইরে নই। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের প্রবণতা এখানেও আছে। প্রয়োজন সাবধানতার। আর এই সাবধানতাই পারে আমাদের রক্ষা করতে। এখনো কোনো ভ্যাকসিন আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেনি। কবে পারবে তার কোনো দিন-ক্ষণও আমাদের সামনে নেই। তাই এ মুহূর্তে প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা।

এতকাল আমরা যা করেছি তা মন থেকে মুছে ফেলে নিজেকে নিজেই রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। অন্যথায় আমাদের ভুলের মাশুল আমাদেরই দিতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে কোনো লাভ হবে না। সুতরাং সময়ের কাজ সময়েই করা ভালো। সরকারের যে কোনো দায়িত্ব নেই তা বলছি না। সরকার সরকারের কাজ করবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রাষ্ট্রের নাগরিকেরও কিছু দায় থেকে যায়। আমরা নাগরিক হিসাবে সে দায়িত্ব পালন করব এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য সে দায়িত্ব পালনে আমাদের অবহেলা জাতিকে এক মহাবিপদের দিকে ধাবিত করছে। আমাদের মাঝে বেশিরভাগই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছি। এটাই এ মুহূর্তের বাস্তবতা। এই বাস্তবতার পরিবর্তন আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই শীত মৌসুমে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা টিকা বাজারে আসার পর দ্রুত তা সংগ্রহ করা, প্রয়োজনীয় অন্যান্য ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, পরীক্ষা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ।

সূত্র মতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে নানামুখী প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। মানুষকে সচেতন করার জন্যই এই প্রচারণা। এতেও যদি কাজ না হয়, মানুষ যদি দায়িত্ব পালনে নিজেকে সরিয়ে রাখে তখন! সরকারের পক্ষ থেকে জরিমানা বা শাস্তির ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সাবধানের মার নেই। তাই জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। এ মুহূতের্ই জরিমানা বলবৎ করা দরকার। কেননা আমরা জানি, একমাত্র মাস্ক ব্যবহারে ৮০ শতাংশ সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম।

ইউরোপ-আমেরিকায় এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে কোনো কোনো দেশে। সংক্রমণ ও মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। বাংলাদেশেও সংক্রমণের হার ১২ শতাংশের মতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হার যতক্ষণ ৫ শতাংশের নিচে নেমে না আসবে, ততক্ষণ ঝুঁকিমুক্ত বলার সুযোগ নেই।

এদিকে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মৃদু শীত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর নভেম্বর থেকে পুরো মাত্রায় নামবে শীত। বাড়বে সর্দি-কাশি-শ্বাসকষ্ট ও জ্বর। ফলে শীতে কোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে তার মৃত্যুঝুঁকিও বাড়তে পারে। সুতরাং সাবধান হওয়ার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। কেবল সরকার সাবধান হলেই কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হবে না। সাবধান হতে হবে গোটা জাতিকেই। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে দায় এবং দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রের সব নাগরিককেই।

পিডিএসও/হেলাল