দ্বিতীয় দফায় করোনা, সতর্ক থাকতে হবে

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৩

সম্পাদকীয়

বারবার উচ্চারিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। বলা হয়েছে এবং হচ্ছে ‘সতর্ক থাকুন’। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা যেন অসতর্ক থাকতেই ভালোবাসি। করোনা এখনো পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়নি, এ কথা অজানা নয়। সবাই জানি। কিন্তু জেনেও গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্নে মনোযোগী হতে পারিনি। অনেকটা জেনেশুনেই অবহেলা করছি। আর এই অবহেলা যে আমাদের কোথায় নিয়ে দাঁড় করাতে পারে তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। এই অবহেলা যে একটি জাতিকে সার্বিকভাবে পঙ্গু করে ঘরে বসিয়ে রাখতে পারে এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। এক মহাদুর্ভিক্ষের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে সে ব্যাপারেও কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। প্রথম দফার অভিজ্ঞতাই সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এখনো সময় আছে সতর্ক হওয়ার। দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণের আগেই আমাদের সে প্রস্তুতি গ্রহণ নিজের জন্য, পরিবারের জন্য তথা রাষ্ট্রের জন্য আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

আগামী অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা করছে সরকার। আর এর জন্য বিদ্যমান অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতির আগাম নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে অনেক শীতপ্রধান দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশে শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই। তাই এখন থেকেই সতর্কতার শুরু হতে হবে। বিশেষজ্ঞরা একই মত প্রকাশ করে বলেন, নভেম্বরের শেষ দিকে সেকেন্ড ওয়েভ আসতে পারে এবং পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

দেশে প্রাণঘাতী করোণা আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১ হাজার ৭০৫ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার ৬২১ জন। মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার অতিক্রম করল। প্রধানমন্ত্রী করোনাকালে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় ওয়েভ আসার আগেই সবাইকে মাস্ক পরার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সবাই মিলে ঠিকমতো মাস্ক ব্যবহার না করলে বিপদকে ডেকে আনা হবে এবং তা হবে আত্মঘাতীর শামিল। কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বিশেষজ্ঞদের কথা তুলে ধরে বলেন, দুই তরফ থেকে যদি মাস্ক পরা থাকে তাহলে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ নিরাপদ থাকা যায়। আর মাস্ক ব্যবহার না করলে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান সংক্রমণ রোধে দেশ-জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক এবং মঙ্গলজনক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমরা তা মেনে চলছি না। এই না মানার প্রবণতা যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা যেকোনো মুহূর্তেই প্রকাশ পেতে পারে। তখন সবকিছুই আমাদের হাতের বাইরে চলে যাবে। আর এই বাইরে চলে যাওয়ার জন্য দায়ী থাকতে হবে আমাদের যারা মাস্ক পরা থেকে নিজেদের বিরত রেখেছি।

আমরা মনে করি, মাস্ক পরাকে বাধ্যতামূলক করা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। জরিমানা করা হলে না পরার মানসিকতা অনেকটা কমে আসতে পারে। বিদেশে এমন ব্যবস্থা রয়েছে। বৃহত্তর স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো কাজে স্বেচ্ছায় মান্যতা না এলে বলপ্রয়োগ কোনো অন্যায় হতে পারে না। তাই এক্ষেত্রে জরিমানা হবে একটি ইতিবাচক নির্দেশনা। আমরা সেই নির্দেশনারই প্রত্যাশায় রইলাম।

পিডিএসও/হেলাল