আজই শান্তিচুক্তির আশা ট্রাম্পের, ভিন্ন সুর ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা নিয়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি আজ স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে ইরান জানিয়েছে, সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও রবিবারই চুক্তি সই হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। তার দাবি, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ একটি শান্তি কাঠামোতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং পরবর্তী ধাপে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব দাবির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন অগ্রগতি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনার মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, আলোচনার প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ না থাকলেও ইসরায়েল বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো সীমিত করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো বিষয়গুলো সম্ভাব্য চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেল আবিব।
তবে ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পেয়ে যেতে পারে, অথচ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর নিশ্চয়তা নাও মিলতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তিতে যা থাকতে পারে
যদিও সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ খসড়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি, বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা কিছু নৌ-নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক এই সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পৃথক আলোচনা চালিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে এখনও স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা অন্য দেশে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তেহরান এ দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাবে না কিংবা ধ্বংসও করবে না; বরং নিজ দেশে সংরক্ষণ করে এর সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর পথ অনুসরণ করবে।
ফলে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও চূড়ান্ত চুক্তির আগে এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা বাকি রয়েছে।









































