মো. আবু সাইদ খোকন,  আমতলী (বরগুনা)

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্মার্টফোন আসক্তিতেই বখাটেপনায় উঠতি বয়সীরা

বরগুনার আমতলীতে হালে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বেড়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা। ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় শিশু-কিশোরদের ব্যস্ততা থাকে ইন্টারনেটভিত্তিক গেম, নানা ভিডিও দেখা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে। মফস্বল শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের মধ্যে টিকটক আর লাইকি নিয়েও উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে তাদের প্রাত্যহিক জীবনের নানা আচার-আচরণে ডিজিটাল দুনিয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

এ কারণে উঠতি বয়সীদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় ঘটার প্রভাবও বাড়ছে। বখাটেপনা, দাদাগিরির মনোভাব নিয়ে নানান অনৈতিক কাজও করে বেড়াচ্ছে তারা। সংঘটিত হচ্ছে কিশোর অপরাধ। মফস্বল এলাকায় গ্যাং কালচারের প্রবেশ ঘটছে এভাবেই। স্থানীয় সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তি এভাবেই ব্যাখ্যা করেন বিষয়টির।

বিভিন্ন পেশাজীবী সচেতন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে মাল্টিমিডিয়া মোবাইল সেট অর্থাৎ এ্যান্ড্রয়েট মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে শিশু-কিশোরদের। প্রাথমিকের গণ্ডি পার না হওয়া এক শ্রেণির শিশু থেকে শুরু করে উঠতি বয়সীদের হাতে হাতে এ্যান্ড্রয়েট মোবাইল সেট। 

তারা মনে করছেন, সহজলভ্য হওয়ায় ইন্টারনেট ভিত্তিক নানা গেমস্ নিয়ে মেতে থাকে কিশোরদের দল। বিশেষ করে ফ্রি-ফায়ার, পাবজির মতো গেমস আশক্তি বাড়ছে তাদের মধ্যে। এছাড়া ফোনে টাকা বাজি ধরে লুডুসহ নানা ধরনের জুয়া আশক্তিতে পড়ছে উঠতি বয়সীরা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় মাধ্যমিক স্কুলের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, এ্যান্ড্রয়েট ফোনসেট এবং ইন্টারনেট হাতের মুঠোয় থাকায় সহজেই পর্ন ভিডিওসহ অশ্লীল ও অনৈতিক ভিডিও দেখার সুযোগ অনায়াসেই পেয়ে যাচ্ছে অপরিণত বয়সীরা। এর ফলে এ সকল শিশু-কিশোরই একটু বড় হলে জড়িয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্মে।

তিনি বলেন, নানা ধরনের গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আশক্তির কারণে দলবেধে আড্ডা দেওয়া, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এমনকি মাদকদ্রব্য গ্রহণের মতো অপরাধমূলক কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছে তারা। এসব কাজকে স্মার্টনেসও মনে করে এসব কিশোর ও উঠতি বয়সীরা।

কেউ কেউ মনে করছেন, পরিবারের অসচেতনতার কারণেই কিশোররা বখাটে হয়ে যাচ্ছে। অপরিণত বয়সে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বাধা না দেওয়ায় শিশু-কিশোরদের মাঝে দিন দিন মোবাইল ফোন ব্যবহারে আসক্তি বাড়ছে। ফলে তারা লেখাপড়া থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পরও বাজারে, রাস্তার মোড়ে এবং গ্রামে-পাড়া-মহল্লায় শিশু-কিশোররা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আড্ডারত। তাদের হাতে স্মার্টফোন। কেউ গেম খেলছে, কেউবা লাইকি, টিকটক ভিডিও নিয়ে মাতছে। আবার কেউ কেউ ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা সাইটে ব্যস্ত। কেউ আবার মোবাইল স্ক্রীনে লুডুসহ নানা জুয়ায় আসক্ত হয়ে নগদ অর্থ বাজিতে মেতে হইহুল্লোড় করছে।

অভিভাবক, মসজিদের ইমাম, স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতি সংগঠনের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, বড়দের সাথে বেয়াদবি, শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করতেও দ্বিধা করে না এখন উঠতি বয়সীদের একটা শ্রেণি। আধিপত্য নিয়েও পরস্পরের মধ্যে বিরোধে জড়াতে দেখা যায় তাদের। মূলত মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের ফলেই উঠতি বয়সীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা বলে তাদের ধারণা।

আমতলী সরকারি কলেজের (অব.) সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বিশ্বাস বলেন, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে স্মার্টফোন বহুমাত্রিক অপরাধের দিকে ধাবিত করছে। পরিবারের অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। নতুবা শিশু-কিশোররা ও উঠতি বয়সীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তিনি মনে করেন, আঠার বছর বয়সের আগে সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া থেকে অভিভাবকদের বিরত থাকতে হবে।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বখাটেপনা,স্মার্টফোন,কিশোর অপরাধ,নৈতিক অবক্ষয়
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close