ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

  ০৯ মার্চ, ২০২০

প্রত্নসম্পদ-কবরস্থান রক্ষা করে সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বাড়িউড়া এলাকায় ১৬০০ শতাব্দীতে নির্মিত বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে সংরক্ষিত নিদর্শন ‘হাতিরপুল’ ও দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা দুটি কবরস্থান ও একটি মসজিদ রক্ষা করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এই দাবিতে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর পক্ষে বাড়িউড়া গ্রামের জসীম উদ্দিন লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, বাড়িউড়া বাজারের পূর্ব প্রান্তে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষা উত্তর পাশে ঐতিহাসিক হাতিরপুলটির অবস্থান। ১৬৫০ সালে মুঘল

আমলে সরাইলের দেওয়ান শাহবাজ আলী সরাইল থেকে শাহবাজপুর হয়ে হরষপুরে যাতায়াতে পথে হাতির বিশ্রামের জন্য একটি ছাউনি নির্মাণ করেন। যা পরে ‘হাতিরপুল’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এই সেতুটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরাইলের ঐতিহ্য, যা এখন প্রতœতত্ত্ব সম্পদ।

উপজেলার ইসলামাবাদ থেকে বাড়িউড়া হয়ে শাহবাজপুর গ্রাম পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উত্তর পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে ৩০০ বছরের পুরোনো দুটি কবরস্থান। সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া , ইসলামাবাদ ও বছিউড়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামের লাশ সেখানে সমাহিত করেন। এছাড়া বিকল্প আর কোনো কবরস্থান নেই।

৪০ বছর আগে নির্মিত বাড়িউড়া বাজার জামে মসজিদটিও মহাসড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত। এই মসজিদে বাজারের ক্রেতা, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ নামাজ আদায় করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি বর্তমানে দুই লেনের। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে এটিকে দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি বছরেই এর কাজ শুরু হবার কথা রয়েছে। এজন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন সম্প্রতি সড়কের উত্তর পাশের জায়গা অধিগ্রহণ করতে মাপজোক করে।

বাড়িউড়া বাজারের ব্যবসায়ী ও সর্দার হাবিব রহমান বলেন, কবরস্থান, মসজিদ এবং ঐতিহ্যবাহী হাতিরপুল এলাকার মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাতিরপুল স্থাপত্য নিদর্শন হওয়ায় এটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসেন। প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর এটিকে সংস্কার ও সংরক্ষণ করেছে। এগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার কথা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। ফলে এলাকার মানুষ চায় মহাসড়কটি দক্ষিণ দিকে প্রশস্ত করা হোক। সরাইলের কুট্টাপড়া মোড় থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিজস্ব পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। অথচ তারা তা না করে দক্ষিণ দিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা থাকা সত্ত্বেও উত্তর পাশে সার্ভে করেন এবং ছয় লেন সড়কের নকশা আঁকার প্রস্তুতি নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম আল মামুন বলেন, সার্ভে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে এটি করা হয়। এলাকাবাসীর দাবির বিষয়টি সম্পর্কে ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওয়াকিবহাল। এসব বিবেচনা করেই মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজের প্রকল্প চূড়ান্ত হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়