সৈয়দ মেহেদী হাসান, ডামুড্যা (শরীয়তপুর)

  ৪ ঘণ্টা আগে

ঐতিহ্য

রহস্যে ঘেরা ৪০০ বছরের মসজিদ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ৪০০ বছরের পুরোনো নাগেরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুরে অবস্থিত তালুকদারবাড়ী জামে মসজিদটি জিনের মসজিদ নামে পরিচিত। প্রচলিত রয়েছে এক রাতে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন তারা। মসজিদটিতে মোগল আমলে কারুকার্যখচিত, নান্দনিক ডিজাইন করা রয়েছে। এতে করে মসজিদটিতে নামাজ পড়তে ও দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক লোক আসে নিয়মিত।

এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, মসজিদটি যেই জায়গায় নির্মিত হয়েছে সেখানে অথৈ পানি ছিল। এক রাতে সেই পানিতে মাটি ফেলে নির্মাণ করা হয় মসজিদটি। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদটিতে মানুষের নকশা বা শ্রমিক এ গড়ে উঠেনি বলে ধারণা। এর ডিজাইন ও কারুকার্য মোগল সাম্রাজ্যের আমলের। প্রবীণরা জানান, মসজিদের আশপাশে অথৈ পানি ছিল। সেই পানিতে মাছ ধরতে আসেন ওই এলাকার একজন লোক। এতে করে মসজিদটির পুরোপুরি নির্মাণ শেষ হয়নি। আবার ধারণা করা হয় জিনদের মসজিদ নির্মাণের কাজ হতে হতে প্রায় ভোর হয়ে যায়। তাই কিছু কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান তারা। এটি নির্মাণের পর ৫০ থেকে ৬০ বছর কেউ নামাজ পড়তে আসতেন না এখানে। পরবর্তীতে এই এলাকায় মানুষজন বা বসতি গড়ে উঠার পর মসজিদ ব্যবহার শুরু হয়। মসজিদের কোনো ধরনের নামফলক বা ইতিহাস লেখা নেই। কিন্তু তখনো অধিকাংশ সময় নামাজে অপরিচিত অনেককে দেখা যেত।

মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, চতুর্ভুজ আকৃতির মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট। ৫ কাঠা জমির উপরে স্থাপিত এই মসজিদটি। মসজিদের ভিতরে তিন কাতারে নামাজ আদায় করা যায়। প্রতি কাতারে ১০ জন করে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটিতে মোট তিনটি কাতার দাঁড়াতে পারে। মসজিদের ভিতরে তিন কাতারে ৩০ জন লোক নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদের বাইরের অংশে ৪০০ বছরের পুরোনো একটি মাঠ রয়েছে। এখানেও কাতার করে নামাজ আদায় করা যায়। মসজিদের আঙ্গিনা ঘেঁষা পুকুর আছে। সেখানে মুসল্লিদের জন্য অজু করার একটি সান বাঁধানো ঘাট রয়েছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চার শতাংশ জমির উপর নির্মিত চতুর্ভূজাকৃতির এ মসজিদটি কালের পরিক্রমায় সব কিছু হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। এক গম্বুজ ও চারপাশে চারটি চিকন খুঁটির উপর ছোট খিলানাকৃতির গম্বুজের উপর কালের সাক্ষী হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জিন মসজিদ। মেঝের চারপাশ পাকা। মূল মসজিদ ভবনের প্রবেশ পথ চারটি। ভেতরের দেয়ালের কারুকাজে মোগল স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন রয়েছে। এখানে একসঙ্গে ত্রিশজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। দীর্ঘদিন যাবত এখানে জুমা, পাঞ্জেগনা ও ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। মসজিদসংলগ্ন পশ্চিম পাশে বিশাল পুকুর রয়েছে এবং পুকুরের পাকা ঘাট এখনো টিকে আছে।

আব্দুল হালেম মৃধা (৫০) বলেন, ভয়-ডর লাগে না। জিনের মসজিদ সবাই বলে। আমরা ছোটবেলা থেকে এই মসজিদেই নামাজ পড়ি। ছোট থেকে সবার কাছে শুনে আসছি এটা জিনের তৈরি মসজিদ। মুরব্বিরা আগে জিন দেখেছে। এখন আর দেখা যায় না।

মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সালাম তালুকদার বলেন, পূর্বপুরুষদের মুখ থেকে শুনেছি, এটা এক রাতে জিনরা তৈরি করেছে। জিন তৈরি করেছে এ বিশ্বাস থেকেই সবাই এটাকে জিন মসজিদ বলেন। ৪০০ বছর হলো কিন্তু মসজিদটি মেরামত করার উদ্যোগ নেয়নি কেউ। জিনের মসজিদের ইমাম নুরুল ইসলাম বেপারী বলেন, আমি এখানে ৩২ বছর ধরে ইমামতি করছি। নামাজ পড়িয়ে অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়। গরমকালে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। শীতের সময় ভেতরে গেলেই গরম লাগে। গ্রামের সবাই এখানে জুমা, তারাবি নামাজ পড়তে আসেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়