reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

চট্টগ্রামের বন্যার্তদের পাশে মাস্তুল ফাউন্ডেশন: ত্রাণ বিতরণে অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দুর্গত এলাকায় কাজ করছে। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার, চাল, ডাল, শুকনো খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় পানি এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হচ্ছে।

চলমান এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বন্যাকবলিত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাস্তুল ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন,"আমাদের সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। দুর্যোগের শুরু থেকেই সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর চিফ অপারেটিং অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন জানান,"যেসব পরিবার বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়েছে বা বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ঘর মেরামত, নতুন ঘর নির্মাণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবিকা পুনরুদ্ধার ও স্বাবলম্বী করে তুলতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে এবং বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ কার্যক্রমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি"

মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংস্থা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

এর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— করোনা মহামারিতে মরদেহ দাফন সেবা, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের বন্যায় ত্রাণ বিতরণ, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, “যাকাত স্বাবলম্বী” প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং “মেহমানখানা” উদ্যোগে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ। এছাড়া তুরস্কের ভূমিকম্প, গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে।

ঢাকার হাজারীবাগে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টার হোম ও এতিমখানা পরিচালনা করছে। উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়