রাজধানীর আদাবর
সালিশে অতর্কিত হামলা, বিএনপি নেতার মৃত্যু

রাজধানীর আদাবরে একটি বিচার-সালিশ চলাকালে অতর্কিত হামলায় আহত নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মারা গেছেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবরের নবোদয় বাজারে একটি রঞ্জুর দোকানে বিরোধ মীমাংসার সালিশ চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আবুল বাসার বাদশা (৩০) আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই হামলায় ওই ইউনিট বিএনপির সভাপতি মো. সাদ্দামও (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন নবোদয় হাউজিং এলাকায় একটি ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ঢোল বাজিয়ে হইচই করেন। এ সময় আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমান নবোদয় বাজারের ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে রিপনকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নবোদয় বাজারে ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি বিচার-সালিশ বসে। অভিযোগ রয়েছে, সালিশ চলাকালে রিপন, নীরব, পারভেজ ও মাসুমসহ কয়েকজন ধারালো ছুরি ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা হাবিবুর রহমানের পক্ষের লোকজনসহ নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশার ওপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
হামলার পর উপস্থিত লোকজন আহত দুই নেতাকে উদ্ধার করে দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে বাদশার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত রিপন, নীরব, পারভেজ ও মাসুম এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা স্থানীয় ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মিরাজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে মিরাজের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









































