লামায় জাতীয় ফল মেলায় প্রান্তিক কৃষকরা পেলেন সার-বীজ

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি “ ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারোমাস’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের লামা উপজেলায় দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ হয়েছে। দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও উপযোগিতা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
রোববার (২৮ জুন) বেলা ১২টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সরদার মাসুদ।
ফল মেলার সমাপনী অংশে উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরকারি কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে উন্নত মানের সার ও বীজ বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহেল রানা, তথ্য কর্মকর্তা রাসেদুল হক রাসেদ, লামা থানার ওসি কাইছার হামিদ, বিএনপি নেতা আমির হোসেন, বিএনপি নেতা আবদুর রব, লামা প্রেসক্লাব সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান প্রমুখ।
মেলায় নতুনত্বের ছোঁয়া: পরিচিতি ও পুষ্টিগুণ প্রদর্শন: উদ্বোধন শেষে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রতিটি স্টলে প্রদর্শিত দেশীয় ফলের পাশে সেটির স্থানীয় নাম, বৈজ্ঞানিক নাম, পুষ্টিগুণ এবং ভিটামিন সংক্রান্ত তথ্যের ডিজিটাল ও লিখিত প্রদর্শনী।
মেলায় নিজের বাগানের হরেক জাতের আম নিয়ে স্টল দেওয়া ছাত্রনেতা শরীফ নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, মেলায় অংশ নিতে পেরে আমি দারুণ উৎসাহিত। আমার বাগানে আমসহ হরেক রকমের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর দেশীয় ফল চাষ হচ্ছে। আশা করি, আমাদের দেখে অন্য তরুণরাও ফল চাষে এগিয়ে আসবে।
মেলায় আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা জানান, অনেক বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ফল তারা এখানে এসে প্রথমবার দেখছেন। ফলের পাশাপাশি পুষ্টিগুণের তালিকা থাকায় মেলাটি শুধু প্রদর্শনী নয়, বরং একটি শিক্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
'অর্থনীতি ও পুষ্টি নিরাপত্তায় ফল চাষ অপরিহার্য': উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় জনগণের মধ্যে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চাষিদের নতুন নতুন বাগান করতে উৎসাহিত করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। দেশীয় ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা আমাদের পুষ্টি নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে।
আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে শিশুদের মাঝে বেশি বেশি দেশীয় ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তাঁরা বলেন, বিদেশি ফলের চেয়ে আমাদের দেশীয় ফল অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।









































