মো. মনির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১৬ কোটি টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক ছয় মাস পর খুলে এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি পাওয়া গেছে স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
শনিবার সকাল ৭টায় দান সিন্দুকগুলো খোলার পর মসজিদের মেঝেতে টাকা ঢেলে গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে, যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
দান সিন্দুক খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দান সিন্দুক খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
টাকা গণনার কাজে অংশ নেন মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ।
পুরো গণনা কার্যক্রমকে ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দান সিন্দুক খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা| পাশাপাশি স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
শুধু নগদ অর্থই নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ পাগলা মসজিদে দান করে থাকেন। নগদ টাকার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন ধরনের সামগ্রীও দান করা হয়।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের ১০টি স্থায়ী সিন্দুক এবং ৩টি অস্থায়ী ট্রাংক দানবাক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থ রূপালী ব্যাংকে পাগলা মসজিদের হিসাবে জমা করা হবে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালা করে জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে ১১৪ কোটির বেশি টাকা জমা রয়েছে। অনলাইনে দান গ্রহণের জন্য www.paglamosque.org ওয়েবসাইট চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদের আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং নান্দনিক নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।
এছাড়া পাগলা মসজিদের তহবিল থেকে মাদ্রাসার ১৩০ জন এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভরণপোষণ, ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন, মসজিদের বিদ্যুৎ বিল এবং উন্নয়নমূলক ব্যয় বহন করা হয়। পাশাপাশি তহবিলের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।









































