reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

পাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

১৪ মাস পর শুরু ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সারা দেশে আবারও শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬৪ জেলার প্রায় আড়াই কোটি শিশু ভিটামিন এ পাবে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’-এর ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ক্যাম্পেইনটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়নো শুরু হয়। এটি তখন ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সাথে ভিটামিন ‘এ’-কে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা একটি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয় যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন, যা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। ২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে কার্যক্রম হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুল সংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস বন্ধ ছিল এই ক্যাম্পেইন। দীর্ঘ সময় পর ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের অন্ধত্ব, অপুষ্টি এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু রাতকানা রোগ প্রতিরোধই করে না, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জেরোফথ্যালমিয়া, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে। এ কারণে বছরে দুইবার, ছয় মাস অন্তর জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারা দেশে এই ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য ফিক্সড আউট বিচ কেন্দ্র থাকবে ১ লক্ষ ২০ হাজার। এছাড়া লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, ট্রেইনট্রেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদিতে মোবাইল কেন্দ্র থাকবে ৫০০টি। এছাড়া দুর্গম অঞ্চলে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ১৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম চালানোর মাধ্যমে শিশুদেরকে ভিটামিন এ খাওয়া হবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়