তরিকুল্লাহ আশরাফী, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট গাবরাখালি গারো পাহাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাবরাখালী গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের লীলাভুমি। এই গ্রামে রয়েছে ময়মনসিংহের গারো পাহাড় নামে খ্যাত এর একাংশ। আর এই গ্রামের নামেই নামকরণ করা হয়েছে গাবরাখালি গারো পাহাড় পর্যটন কেন্দ্র। যা ইহা হালুয়াঘাট থেকে ১৪ কিমি উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত।
সরেজমিনে জানা গেছে, এই অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দয্য মুগ্ধ করে সকল বয়সের মানুষকে। ঈদের আনন্দ ও বনভোজন করতে পরিবারসহ সকল শ্রেণীর মানুষ ভিড় জমান গাবরাখালি গারো পাহাড় পর্যটন কেন্দ্রে। সমতল ভূমি পরিবেষ্টিত পাহাড়, পাখির কলরব আর সোনালী সূর্যের সূর্যাস্তক্ষণ দেখতে অনেক সুন্দর। ১২৫ একর এলাকা জুড়ে ছোট-বড় ৬৭টি পাহাড় নিয়ে গাবড়াখালি পাহাড় গঠিত। পাহাড়গুলো ৭০ ফুট থেকে ২০০ ফুট উচুঁ হবে। পাহারগুলোর বিভিন্ন নাম আছে। যেমন- চিতাখলা টিলা, যশুর টিলা, মিতালী টিলা, বাতাসী টিলা ইত্যাদি। পাহাড়ের মাঝখানে নীচু জমি আছে পানিতে ভরে গেলে লেক মনে হবে। নীচু জমিগুলোতে বোরো মৌসুমে ভারত থেকে সরার পানি দিয়ে বোরো ধান আবাদ করা হয়। এছাড়াও পাহাড় গুলোতে রয়েছে সারি সারি গজারি গাছ। এ গাবড়াখালি গ্রামে পূর্বে হাজং ও বানাই জনগোষ্ঠির ছিলো বসবাস। এর উত্তর প্রান্তে সংলগ্ন এলাকায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমানা।
শিক্ষা সফর, পারিবারিক ভ্রমণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বনভোজনের সময় বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, অটো, মোটরসাইকেল যোগে আসা পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছে এই পিকনিক স্পটে।
সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০টি বাস, কয়েকশ মোটরসাইকেলসহ প্রাইভেটকার যোগে ২-৩ হাজার ভ্রমণ পিপাসুদের আগমন ঘটে এখানে। এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানা সুবিধা। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা,গাড়ি পার্কিং সুবিধা, রয়েছে প্যাডেল বোট, লেক ও ঝুলন্ত ব্রিজ। এছাড়াও শিশুদের জন্য রয়েছে দোলনা, বেবি পিচ, সুপেয় খাবার পানি, দূরের যাত্রীদের জন্য রয়েছে রেস্ট হাউজ, স্বাস্থ্য বিধি মোতাবেক শৌচাগার। ভারতের মেঘালয় প্রদেশের পাশ ঘেঁষে পিকনিক স্পটটি তৈরি হওয়ায় ঐ এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নসহ আরো সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে এলাকাটি হয়ে উঠবে একটি মনোরম পর্যটন কেন্দ্র।









































