জলাবদ্ধতা, ৭০ একর জমি পতিত

নান্দাইলে কৃষকরা দিশাহারা

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২০, ১৫:৪০ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ১৫:৫৯

রমজান আলী, নান্দাইল (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের বনগ্রামে ‘সরকারি বনগ্রাম’ নামে ৭০ একর জমিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধান রোপণ করতে না পারায় পতিত রয়েছে। অথচ এর আশপাশের গ্রামের জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। ওই বনগ্রাম এলাকার শতাধিক কৃষক নিজ/বর্গা/বন্ধকী জমিতে ধান চাষাবাদের পরিস্থিতি না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এই জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক পরিবারগুলোতে আঁধার নেমে এসেছে। বর্তমানে তারা বহু কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। 

জমিতে চাষাবাদ করতে না পারলে পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এমনই অভিযোগ তুলে ধরেছেন বনগ্রাম এলাকার কৃষকরা।  

সরেজমিনে জানা গেছে, জলাবদ্ধতার এলাকার পানি নিষ্কাশনের দুটি পথের মধ্যে একটি কালভার্ট ও একটি ব্রীজ ছিল। বর্তমানে একই এলাকার হাফিজ উদ্দিনের পুত্র সফির উদ্দিন চান মিয়া, সুরুজ মিয়া, আবদুল কদ্দুসের পুত্র মিন্টু, রহিম উদ্দিনের পুত্র শফিকুল ইসলাম ও আহম্মদ আলীর পুত্র আবদুল রশিদ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে নতুন বাড়িঘর স্থাপনা করেছে। এতে করে দুটি পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ওই ৭০ একর জমিতে কোনো ধরনের চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, ওই জলাবদ্ধতার কারণে মজিদুল মিয়ার একমাত্র সহায় সম্বল নার্সারিতে (চারারোপণ) পানি উঠায় তার লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে এবং রমজান মিয়া নামে আরেক ব্যক্তির পোল্ট্রি ফার্মে পানি উঠে যাওয়ায় তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

একই গ্রামের আবদুর রাশিদ জানান ১০ শতাংশ জমিটুকু তলিয়ে যাওয়া চাষাবাদ করতে পারছেন না, এটাই তার একমাত্র সহায় সম্বল ছিল। এছাড়া আরও কয়েকটি বাড়িতে পানি উঠে যাওয়া শিশু-কিশোররা পানিবাহিতসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছে। 

এলাকাবাসীর পক্ষে ফজলুল হক আকন্দ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক আশরাফুল আলম জালাল জানান, এই জলাবদ্ধতা দূর না করলে কৃষকদের না খেয়ে মরতে হবে। দ্রুত এর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি। 

এ বিষয়ে খারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসনাত মিন্টু জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে ফায়সালা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত এর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করি।
 
পিডিএসও/হেলাল