মো. রায়হান হোসাইন
মুক্তমত
স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি

বিশ্বে ইতিবাচক দিক দিয়ে বাংলাদেশের যে পরিচিতি তার বড় একটি অংশ এসেছে খেলাধুলার মাধ্যমে। বিশেষ করে ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, টিটি, আর্চারি ইত্যাদি দিয়ে যথেষ্ট সুনাম বয়ে এনেছে এদেশের খেলোয়াড়রা। বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ তো একপ্রকার দাপটের সঙ্গে খেলছে। মোহাম্মদ আশরাফুল থেকে শুরু করে সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজ কিংবা নাহিদ রানারা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জল করে চলেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষও খেলাধুলার প্রতি ভীষণ আবেগী। ক্রিকেট বা ফুটবল যায় হোক না কেন এদেশের মানুষ খেলা এবং খেলোয়াড়দের মন থেকে ভালোবাসে। পাগলামি করে খেলা দেখার জন্য। এই তো শুরু হয়েছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩ তম আসর। এই খেলা নিয়ে দেশে শুরু হয়ে গেছে উম্মাদনা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না থাকায় ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা সেরা তা নিয়ে চলছে একপ্রকার প্রতিযোগিতা।
খেলাপ্রিয় দেশে এতো জনপ্রিয়তা থাকলেও একাডেমিক দিক দিয়ে বিশেষত কোচিং এবং গবেষণায় তেমন উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশে একশোর ওপর বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও নেই কোনো ক্রীড়াবিজ্ঞান বা স্পোর্টস সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপি যেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। সেই বিকেএসপির কোচিংও বিদেশ ডিগ্রির ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া স্পোর্টস সায়েন্সেও খুব সারা জাগাতে পারেনি। এমতাবস্থায় দেশে বর্তমানে একটি বিশেষায়িত স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্টিসি প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। এতে করে দেশের উন্নত ক্রীড়া শিক্ষার দ্বার উন্মোচন হবে। বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। দেশি খেলোয়াড়রা কোচিং পেশায় ভালো করবে।
আধুনিক খেলাধুলা শুধুমাত্র মাঠের অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বর্তমানে এর সঙ্গে বিজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মনোবিজ্ঞান, পুষ্টিবিজ্ঞান, স্পোর্টস বায়োমেকানিক্স, ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট ও ডাটা অ্যানালাইসিস ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন খেলাধুলার অপরিহার্য অংশ। ফলে খেলাধুলা বা স্পোর্টস সায়েন্স বিষয়টি এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্সিটি গবেষণা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের বিরাট কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির ক্ষেত্রে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। যা ভবিষ্যতে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকার সমস্যা সমাধানে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সুতরাং এখনই উত্তম সময় দেশে স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করার।
সম্প্রতি স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা নিয়ে রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের খেলাধুলাকে আরো সমৃদ্ধ এবং বেকার সমস্যা দূরকরণেও এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে সেমিনারে আলোচিত হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজশাহীতে কেন স্থাপন করা হবে সে বিষয়েরও যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। সেমিনারটি শহীদ জিয়াউর রহমান শারীরিক শিক্ষা কলেজ, রাজশাহীর অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সালাম বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ মিজানুর রহমান মিনু (এমপি), রাজশাহী ৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এম, রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী, রাজশাহী জেলা পরিষদের জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
ষেখানে বক্তারা উল্লেখ করেন রাজশাহীতে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা হলে এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে না বরং দেশের ক্রীড়া, গবেষণা, অর্থনীতি ও জাতীয় খেলাধুলার উন্নয়নের একটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষানগরীখ্যাত রাজশাহীতে স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হলে খেলোয়াড় তৈরির আতুরঘর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) আঞ্চলিক শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্রীড়াক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার একটি বিরাট পরিবেশ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়। পদ্মাপারে অবস্থিত এই নগরীতে একটি স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়ে উঠলে শিক্ষানগরী হিসেবে রাজশাহী পাবে পরিপূর্ণতা। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাখবে ভূমিকা। এ ছাড়া বেকার সমস্যা সমাধানেও রাখবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
এ ছাড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভূমি অধিগ্রহণ কিংবা সরকারি খাস জমি উভয়েরই সহজলভ্যতা আছে বিভাগীয় শহরটিতে। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রকে সহজীকিকরণ করবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি সরকার গঠন করার পর নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ শুরু করে। ৮টি ক্রীড়া ইভেন্টে স্কুল পর্যায় থেকেই খেলাধুলায় পারদর্শী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারবে। যা ভবিষ্যৎ ক্রীড়া জগতকে করবে সমৃদ্ধ। এক্ষেত্রে একটি স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্সিটি আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে করে খেলোয়াড়রা উচ্চশিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পেশাতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুপথ পাবে। ফলে দেশে একটি স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। যার মাধ্যমে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।
লেখক : প্রভাষক, সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ
বরিশাল।
"





































