রেজাউল করিম খোকন

  ৮ ঘণ্টা আগে

মতামত

সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সৃজনশীল পেশাজীবীদেরও ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কারণ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতি খাতের মানুষ বাজেটে বড় ধরনের নীতিগত সহায়তার প্রত্যাশা করে আসছিলেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সেই প্রত্যাশার কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে। যদিও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়নি, তবু ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে কেন্দ্র করে সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাজেটের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংস্কৃতি, কারুশিল্প, চলচ্চিত্র, ডিজিটাল কনটেন্ট, পর্যটন ও ক্রীড়াকে একই অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় এনে নতুন উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সরকারের মতে, এসব খাত শুধু সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ নয়, বরং কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। আগামী অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এটি মাত্র দুই কোটি টাকা বেশি। জাতীয় বাজেটের মাত্র ০.০৯ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে থাকা সংগঠনগুলোর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে বাজেটের মূল বার্তা এসেছে অন্য জায়গা থেকে। সরকার প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতিকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ খাতের উন্নয়নে সরাসরি ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরো ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাগুলোর একটি হলো ঢাকার পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর একটি বিশ্বমানের ‘সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব’ নির্মাণ। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্রটিতে আধুনিক স্টুডিও, প্রশিক্ষণ সুবিধা, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকবে। দেশের তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখতে সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

সাধারণভাবে সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে চলচ্চিত্র, নাচ, গান, নাটক, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার, ভিডিও গেমস ইত্যাদিকে বোঝানো হয়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমি আউটলুক-২০২৪ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে এমন পণ্য ও সেবা তৈরি, উৎপাদন এবং বিপণনকে বোঝায়, যেখানে প্রধান উপাদান হিসেবে সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদকে ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সরকার সৃজনশীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতার পরিকল্পনা করছে। দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি সৃজনশীলতার মাধ্যমে উচ্চমূল্য তৈরি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি সরকারের উদ্দেশ্য। সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং দেশের ব্র্যান্ডিং করাও রয়েছে উদ্দেশ্যের মধ্যে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও ভালো অবদান রাখছে সৃজনশীল (ক্রিয়েটিভ) অর্থনীতি। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী এক গোলটেবিল বৈঠকে সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের সফট পাওয়ার নেই। অথচ পাশের দেশের চলচ্চিত্র, সংগীত ইত্যাদি বিশ্বের অন্য দেশে যাচ্ছে।’ সৃজনশীল অর্থনীতি কেন সরকারের অগ্রাধিকারে এলো? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী নানা ধরনের সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকুক। এখানে দুটি দিক আছে। প্রথমটি হলো শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে তরুণদের দূরে রাখা। এ জন্য উত্তম উপায় হচ্ছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সব ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের যুক্ত করা। দ্বিতীয়টি হলো সৃজনশীল কাজকে আবার কেউ পেশা হিসেবেও বেছে নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এত দিন কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে দেশে সৃজনশীল অর্থনীতি উদ্দীপ্ত হোক। এ জন্য প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে। আর এর মাধ্যমে বহুমাত্রিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ। বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নিয়ে কর্মপরিকল্পনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এতে বলা হয়েছে, জিডিপিতে সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের অবদান হবে কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কর্মসংস্থান হবে ৫ লাখ মানুষের। সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের কৌশলগত নেতৃত্ব দিতে ‘বাংলাদেশ ক্রিয়েটিভ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠন এবং আন্তর্জাতিক উৎসব ও বাজারে সৃজনশীল সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে জাতীয় ব্র্যান্ড চালু করার প্রতিশ্রুতিও ছিল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে। জিডিপি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান সম্পর্কে দেশে কোনো তথ্য নেই। এ খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নেওয়া দরকার। পাশাপাশি সব উপজেলায় ৫৫০টি সৃজনশীল কেন্দ্র হোক। এগুলোতে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স, ছোট আকারের ক্যাফেটেরিয়া থাকতে পারে। চলচ্চিত্র, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প একসময় নানা ঐতিহ্যমন্ডিত থাকলেও বর্তমানে তা রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। চলচ্চিত্রশিল্পকে চাঙা করতে ভর্তুকি এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। হারিয়ে যেতে বসা যাত্রা ও সার্কাসের উন্নতির জন্য উদ্যোগ সহজ শর্তে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং ষড়ঋতুভিত্তিক মেলা আয়োজন করতে হবে। এরই মধ্যে সরকার এক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তের একটি হলো ঢাকার পূর্বাচলে ১০০ একর জায়গার ওপর একটি সৃজনশীল কেন্দ্র (ক্রিয়েটিভ হাব) করা। আরেকটি সিদ্ধান্ত হলো, দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে হবে সৃজনশীল কেন্দ্র। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোতে উদ্ভাবন (ইনোভেশন) কেন্দ্র করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। খালি ও অব্যবহৃত প্লট চিহ্নিত করে এগুলোকে সৃজনশীল কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং হস্তশিল্পের জন্য সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে বিসিক। ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সৃজনশীল অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য অর্থাৎ মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটা ইত্যাদি পণ্য চিহ্নিত করার কাজও করবে বিসিক। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে করা হবে একটি জাতীয় পুল। ঢাকায় বহুতল ভবন ও ছয় বিভাগীয় শহরে হবে সৃজনশীল কেন্দ্র। পর্যটন খাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা, বৈচিত্র্য ও ধারণা নিয়ে একটি পর্যটন মহাপরিকল্পনা হাতে নেবে সরকার। ট্যুরিজম বোর্ড এটা চূড়ান্ত করবে।

পর্যটন খাতের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কক্সবাজারে করা হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র, যা বাস্তবায়ন করবে পর্যটন করপোরেশন। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্যটনের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি একটি ‘জাতীয় উৎসব ক্যালেন্ডার’ করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বেশ কিছু খাত নির্দিষ্ট করেছে। লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এর মধ্যে অন্যতম। লোকসংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে লোকসংগীত, লোকনৃত্য, পালাগান, জারিগান ইত্যাদি। এ ছাড়া আছে হস্তশিল্প। হস্তশিল্পের মধ্যে রয়েছে শীতলপাটি, মাটির কাজ, বাঁশ ও বেতশিল্প। আর ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মধ্যে রয়েছে বাংলা নববর্ষ, গ্রামীণ মেলা ইত্যাদি। আরো কয়েকটি খাতও চিহ্নিত করা হয়েছ এ লক্ষে। শিল্পকলা ও পারফর্মিং আর্টসের মধ্যে রয়েছে থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নাটক, নৃত্য, চিত্রকলা ও ভাস্কর্য। মিডিয়া ও বিনোদনশিল্পের মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচার, কনটেন্ট তৈরি, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদি। প্রকাশনা ও সাহিত্যের মধ্যে বই, পত্রিকা, জার্নাল, অনলাইন ব্লগ ও ডিজিটাল প্রকাশনা, অনুবাদ ও সাহিত্যকর্ম ইত্যাদি। ডিজাইন ও ক্রিয়েটিভ সেবার মধ্যে রয়েছে গ্রাফিক ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল ক্রিয়েটিভিটির মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যার ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদি।

পর্যটন ও সাংস্কৃতিক শিল্পের মধ্যে ইকোট্যুরিজম ও সাংস্কৃতিক পর্যটন, ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন পণ্য ও সেবা, উৎসবভিত্তিক পর্যটন, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন। ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল শিল্পের মধ্যে নকশা ও বুটিক, জুয়েলারি, ফ্যাশন ডিজাইন, লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ও হাতে তৈরি পণ্য, মেকআপ ইত্যাদি। এ ছাড়া করপোরেট ও ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ক্রিয়েটিভ মিডিয়া সেবাদাতা সফটওয়্যার কোম্পানি, ইনফ্লুয়েন্সিং, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি। দেশে দেশে সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখার বিষয়টি আমরা দেখতে পাই। সৃজনশীল অর্থনীতির বৈশ্বিক চিত্র আমাদের আশাবাদী করে সহজেই। বিশ্বজুড়ে সৃজনশীল অর্থনীতি থেকে বছরে আয় হয় ২ ট্রিলিয়ন অর্থাৎ ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। আর কর্মসংস্থান হয় ৫ কোটি মানুষের। ২০২২ সালে বিশ্বে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সৃজনশীল সেবা রপ্তানি হয়েছে, যা ৫ বছর আগের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। সেবা রপ্তানির মধ্যে সফটওয়্যার সেবার অবদানই ৪১ শতাংশ। একই বছরে রপ্তানি হয়েছে ৭১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের সৃজনশীল পণ্য। তবে সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে দেশে মেধাস্বত্ব সুরক্ষার প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে। পরিসংখ্যান নেই, নীতিমালা নেই এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই। আছে অর্থায়ন ও বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সহজে ঋণ পান না। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও সৃজনশীল তহবিল খুবই সীমিত। এ ছাড়া আছে দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি। মানসম্পন্ন স্টুডিও নেই, ল্যাব নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মনিটাইজেশন কাঠামো দুর্বল। এ খাতে বাংলাদেশি ব্র্যান্ড যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত নয়। বিপণন, কপিরাইট বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইন দুর্বল।

আশার কথা হলো, এ খাত এগিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ স্টার্টআপ (নতুন উদ্যোগ) তহবিলও গঠন করা যায়। তবে বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। সরকার থাকতে সহযোগিতাকারীর (ফ্যাসিলিটেটর) ভূমিকায়। ১০ বছরের একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে কৌশলপত্র ও নীতিকাঠামো তৈরি করতে পারে সরকার। সৃজনশীল অর্থনীতি নিয়ে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সমাজে নানা ধরনের অপশক্তি আছে। এগুলোর প্রভাব দূর করতে সৃজনশীলতায় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসারে চলচ্চিত্র, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক পর্যটন- এ তিন প্রধান মাধ্যমে জোর দিতে হবে।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার, কলাম লেখক

[email protected]

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়