reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ৮ ঘণ্টা আগে

কমেছে হামের সংক্রমণ

সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে

হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও সঠিক সময়ে টিকাদানের মাধ্যমে শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব। তারপরও কেন হাজার হাজার শিশু টিকার সুরক্ষাবলয় থেকে বাইরে রয়ে গেল? জীবন দিতে হলো শত শত শিশুকে। হাসপাতালের বেডে মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আরো কত শত শিশু। প্রশ্ন হচ্ছে এ দায় কার? প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছে, যা কোনোভাবেই একটি স্থিতিশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিফলন হতে পারে না। হামের উপসর্গ নিয়ে গত শনিবার পর্যন্ত ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে দেশজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে হাম পরিস্থিতির এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংক্রমণ নেমেছে হাজারের নিচে। যা নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর।

বলা সংগত, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে এই মহামারিতুল্য পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। বিভাগীয় ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ওষুধের সরবরাহ এবং চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অবহেলায় আর কোনো শিশুর প্রাণ ঝরে যাক, তা দেশবাসী দেখতে চায় না। হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ। অথচ অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে শিশুদের প্রাণ যাচ্ছে। হামের এই প্রাদুর্ভাব আমাদের মনে করিয়ে দেয়-জনস্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা মানে জাতির ভবিষ্যৎকে ঝুঁঁকির মুখে ফেলা। কাজেই গাফিলতি নয়, দায়িত্বশীলতা দেখানোর এখনই সময়। এ সংকট নিরসনে কেবল আইসোলেশন ওয়ার্ডের শয্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে দেশজুড়ে ‘হাম-রুবেলা স্পেশাল ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা জরুরি। যাতে ভবিষ্যতের জন্য মানুষ সতর্ক হতে পারে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এবং দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠাতে হবে, যাতে একটি শিশুও টিকার আওতার বাইরে না থাকে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে অভিভাবকরা হামের লক্ষণ দেখামাত্রই আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে পারে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, টিকাদান কর্মসূচির কাভারেজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে হামের সংক্রমণ, নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুহার আগের তুলনায় কমেছে। তিনি বলেন, হাম একদিনে নির্মূল হবে না। সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছে। আশা করছি, চলতি মাসের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। বলা প্রাসঙ্গিক যে, বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি একসময় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ছিল। সেই সাফল্য ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন আত্মসমালোচনা এবং সংস্কার। বছরে একবার সমন্বিতভাবে টিকা ও সরঞ্জাম ক্রয়, জরুরি মজুত গড়ে তোলা, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি- এই পদক্ষেপগুলো এখন সময়ের দাবি।

বলা বাহুল্য, টিকা নিয়ে গুজব, ভ্রান্ত ধারণা বা অবহেলা- এসব দূর না করতে পারলে কোনো কর্মসূচিই সফল হবে না। একটি শিশুর টিকা না নেওয়া মানে শুধু তার নিজের ঝুঁঁকি নয়; বরং পুরো সমাজের জন্য ঝুঁঁকি তৈরি করা। মনে রাখতে হবে, হামের বিরুদ্ধে এই লড়াই শুধু সরকারের একার নয়; এটি পুরো জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সম্মিলিত সচেতনতা। কারণ, একটি শিশুর সুস্থতা মানেই একটি জাতির ভবিষ্যৎ। সুতরাং যেকোনো মূল্যে হাম নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে- এর কোনো বিকল্প নেই।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়