reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

সাভার, নরসিংদী ও মানিকগঞ্জ

বজ্রপাতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমিকসহ মৃত্যু আটজনের

বজ্রপাতে তিন জেলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর মনোহরদীতে মারা গেছে তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী। দুজন করে মারা গেছেন মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সাভারে।

তাদের মধ্যে তিনজন কৃষক, দুজন কৃষিশ্রমিক। রোববার(২১ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অজু করার সময় বজ্রপাতে তিন শিক্ষার্থী মারা যায়। এ সময় আহত হয়েছে আরও এক শিক্ষার্থী। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দী গ্রামে দক্ষিণপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।

বজ্রপাতে নিহত শিক্ষার্থীরা হলো কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরপাড়া গ্রামে মো. বাদল মিয়ার ছেলে জহিরুল হক (১৫), দেলোয়ার মিয়ার ছেলে আবু রায়হান (১৪) ও ময়মনসিংহের নান্দাইলের কালীবাজার গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে আবু জাফর (১৫)। তিনজনই মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী ছিল।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ধ্যার আগ থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য বৃষ্টির মধ্যেই অজু করতে গিয়েছিল। ওই সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে চার শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে তিন শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া আহত অপর শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার করা হয়। বর্তমানে তিন শিক্ষার্থীর লাশ হাসপাতালে রাখা আছে।

শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ বলেন, ‘বজ্রপাতের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় আহত আরেক শিক্ষার্থীকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।’

জানতে চাইলে মাদ্রাসা ও এতিমখানার অধ্যক্ষ মো. খোরশেদ আলম জানান, সন্ধ্যার দিকে বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে। এ সময় একদল শিক্ষার্থী মাগরিবের নামাজের জন্য অজু করছিল। আহত অবস্থায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিন শিক্ষার্থী মারা যায়।

বজ্রপাতের ঘটনায় তিন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, নিহত তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যের যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সাভার: সাভার উপজেলার কোন্ডা এলাকায় কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন জমির মালিকসহ আরও দুজন। একপর্যায়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান জমির মালিক। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন সাভারের বলিয়ারপুরের মৃত বুদ্দু মিয়ার ছেলে দ্বীন ইসলাম (৪৫), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে দুলাল (৬০) এবং রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার আদু প্রামাণিকের ছেলে হক আলী প্রামাণিক (৬২)। দুলাল সাভারের হেমায়েতপুরের বড় মসজিদ উত্তর পাড়ায় চুন্নু কসাইয়ের বাড়িতে এবং হক আলী প্রামানিক হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ী এলাকায় একলাসের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বরাতে সাভার মডেল থানা–পুলিশ জানায়, বিকেলে সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়ন কোন্ডা এলাকার বাজারপাড়ার নামা কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন তিনজন। বিকেল পাঁচটার দিকে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুলাল ও হক আলী প্রামাণিক। আহত হন জমির মালিক দ্বীন ইসলাম। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্বীন ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।

সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন বলেন, বিকেলে দ্বীন ইসলাম কৃষিজমিতে কৃষি শ্রমিক দুলাল ও হক আলী কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দ্বীন ইসলাম মারা যান। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জ: সিঙ্গাইর উপজেলার জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। তাঁরা হলেন উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজ হোসেনের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)।

সিঙ্গাইর থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে বাড়ির কাছে কবির ও শহিদুল জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বৃষ্টির মধ্যেই খেতে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হেমায়েতপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিঙ্গাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে। এ সময় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়