ইসতিয়াক আহমেদ হিমেল
বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ পুলিশ : গৌরবময় ইতিহাস থেকে বর্তমান সংকট

পুলিশ হলো সরকারের বেসামরিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তাদের সংগঠন। পুলিশের প্রথম ও প্রধান কাজই হলো জনসাধারণের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। এ ছাড়া তাদের আরো বিভিন্ন কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, দেশের প্রচলিত আইন বলবৎ করা, দেশের অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এসব অপরাধমূলক কাজের সুষ্ঠু তদন্ত করা।
ভারতীয় উপমহাদেশে পুলিশ বাহিনী গঠন সম্পর্কে যদি বলা হয়, তাহলে শুরুতেই ১৮২৯ সালে ব্রিটেনে গঠিত ‘পিলস অ্যাক্ট’র কথা চলে আসে। মূলত এই পিলস অ্যাক্ট ১৮২৯-এর অধীনে গঠিত লন্ডন পুলিশের সাফল্য ভারতে স্বতন্ত্র পুলিশ ফোর্স গঠনে ব্রিটিশ সরকারকে অনুপ্রাণিত করে। ১৮৬১ সালে The Commission of the Police Act (Act V of 1961) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয়। এ আইনের অধীনে ভারতের প্রতিটি প্রদেশে একটি করে পুলিশ বাহিনী গঠিত হয়। বিভিন্ন প্রদেশের পুলিশপ্রধান হিসেবে একজন ‘ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ’ এবং জেলা পুলিশপ্রধান হিসেবে ‘সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ’ পদ সৃষ্টি করা হয়।
ভারত ভাগের পর ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশের পুলিশের নাম প্রথমে ‘ইস্ট বেঙ্গল পুলিশ’ রাখা হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে এটি পরিবর্তন করে ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ’ নামকরণ করা হয়। মূলত ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এই নামে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরে পুলিশ বাহিনী ‘বাংলাদেশ পুলিশ’ নামে সংগঠিত হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বোধহয় ১৯৭১ সালেই। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং বেশ কয়েকজন এসপিসহ প্রায় সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্য বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে জীবনদান করেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকেই এতদঞ্চলের পুলিশ বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব হারিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার। পুলিশের বীর সদস্যরা প্রকাশ্যেই পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা ২৫ মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকার রাজারবাগের পুলিশ লাইনসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বাতিল ৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরাই। এই সশস্ত্র প্রতিরোধটিই মূলত বাঙালিদের কাছে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরুর বার্তা পৌঁছে দেয়। অনুপ্রাণিত করে অন্য সামরিক বাহিনীদের। পরে পুলিশের এই সদস্যরা ৯ মাস জুড়ে দেশব্যাপী গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১২৬২ জন শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঝিনাইদহের তৎকালীন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার মাহবুবউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
এটা তো গেল দূর বা অতীত ইতিহাস। নিকট ইতিহাস ও বর্তমান সময়ে পুলিশি কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, পুলিশ বাহিনী এখন অন্তঃসারশূন্য। নিজের বলে কিছুই আর বাকি নেই তাদের। তাদের পূর্বপুরুষ পুলিশ বাহিনীর হয়ে যে ইতিহাস রচনা করেছিল, যে গৌরব বয়ে এনেছিল, তার ছিটেফোঁটাও আর অবশিষ্ট নেই। আর এসবের পেছনে তারা যেমন দায়ী, ঠিক একইভাবে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যমান সরকারি দলগুলোও দায়ী। সরকারি দল যখন যেভাবে পেরেছে, পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করেছে। বলা বাহুল্য, এই পুলিশ বাহিনীও নিজেদের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে, বিবেক বিসর্জন দিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা, স্বার্থ ও লোভ-লালসার বশবর্তী হয়ে নিজেরাই ব্যবহৃত হয়েছে। নিজেদের উপস্থাপন করেছে খেলনার পুতুল রূপে। আর এই পুতুল নিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী যে যার মতো খেলা করেছে। ফলে, পুলিশ বাহিনী যে মহান উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল, তার যৎসামান্যই আমরা দেখেছি।
গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে পুলিশি কার্যক্রম লক্ষ করলে বোঝা যায়, তারা কতটা অপেশাদারির পরিচয় দিয়েছে সে দিনগুলোতে। বিগত কোটা সংস্কার আন্দোলনে তারা এমনভাবে ছাত্র-জনতার ওপর সহিংসতা ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, যেন ছাত্র-জনতার একেকজন জেল পলাতক শত খুনের আসামি। গত ১৬ জুলাই আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, তিনি দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছেন। আর উল্টো দিক থেকে পুলিশ শটগান দিয়ে গুলি ছুড়ছে। একপর্যায়ে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেখানে চাক্ষুষ প্রমাণ পুলিশের ছোড়া গুলিতেই আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন অথচ এফআইআরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন ‘বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে এবং ইটের টুকরো নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থীকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়’। কতটা অপেশাদার, নির্মম ও নির্দয় হলে তারা স্পষ্ট দিবালোকের মতো স্বচ্ছ বিষয়েও নিজেদের দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালায়। এর পরবর্তী ইতিহাস কমবেশি আমাদের সবারই জানা, একে একে হত্যা করা হলো মুগ্ধ, ফাইয়াজ, রিয়াদ ও প্রিয়সহ কয়েক শ ছাত্র-জনতাকে। এই হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল পুলিশ।
বলা যায়, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, শ্রমিক লীগ আওয়ামী লীগের এসব অঙ্গ-সংগঠনের সাহায্যকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল আমাদের পুলিশ বাহিনী। তারা পরস্পর পাশাপাশি অবস্থান করে গুলি ছুড়েছে, আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করেছে। যেন তারা একে-অপরের সহকর্মী। তাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা যেন একই সূত্রে গাঁথা ছিল। জুলাইয়ের গণহত্যায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনগুলোকে যেমন দায়ী মনে করা হচ্ছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী কতটা দায়ী তাও খতিয়ে দেখা জরুরি। এ জন্য জরুরি, এসব চিত্র দেখে বা ইতিহাস জেনে এবং বুঝে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষা নেবে যে তাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কোনটা করা উচিত আর কোনটা নয়। নৈতিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ও কার্যকর মাধ্যম হলো, ‘অভিজ্ঞতার আলোকে শেখা।’
তা ছাড়া, পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের দুর্নীতি ও অনিয়মের হাজারো প্রমাণ রয়েছে। তিন সুপারম্যানখ্যাত সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদ ও সদ্যবিদায়ী ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। পুলিশের সিনিয়র এই তিন কর্মকর্তার ‘ফাউন্ডেশন’-এর নামে নজরানা আদায়ের চাঁদাবাজির ব্যবসায় পুলিশের চেইন অব কমান্ড যেমন ধ্বংস হয়েছে, তেমনি ধ্বংস হয়েছে পুলিশ বাহিনী। তিন পুলিশ কর্মকর্তা ভিন্ন পরিচয়ে নজরানা আদায়ে ফাউন্ডেশন করেন। তাদের দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত দায় গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপর পড়েছে। বেনজীর আহমেদ আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ঘুষবাণিজ্যের অর্থ গলা পর্যন্ত গিলে ফেলেছেন। এখন না পারছেন বমি করতে, না পারছেন পেটে রেখে দিতে। পুলিশের সাবেক এই আইজিপি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ টানলেই বোঝা যায় দুর্নীতি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বেনজীর ও তার পরিবারের নামে ৬৯৭ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ঢাকায় ১২টি ফ্ল্যাট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ও ৩টি বিও হিসাব খুঁজে পেয়েছে। একজন আইজিপির সম্পদের পরিমাণ চিন্তা করে দেখুন একবার, এতেই বোঝা যায় তিনি ঠিক কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ কীভাবে করেছেন, চরিত্র কতটা চাটুকারিতাপ্রবণ ছিল। এত সম্পদের মালিক তিনি নিশ্চয়ই কোনো বৈধ পথ অবলম্বন করে হননি। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়। এ রকম একটা বা গুটিকয়েক ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে। তাই এদের কর্মতৎপরতাই আমাদের কাছে দৃশ্যমান।
এ রকম হাজার হাজার ‘বেনজীর আহমেদ’, ‘শহীদুল হক’ ও ‘হাবিবুর রহমান’ আছে আমাদের দেশে। তারা এগুলো করতে পেরেছে একমাত্র জবাবদিহির অভাবের কারণে। তাদের কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। তারা যা চায়, তাই করতে পারে। অবৈধ সম্পদ গঠনের পেছনে তাদের সাহস জুগিয়েছে পুলিশ বাহিনীর এই জবাবদিহির অভাব। রাজনৈতিক কট্টর মতাদর্শও পুলিশ বাহিনীর অধঃপতনের জন্য দায়ী। রাজনৈতিক প্রভাব যুগে যুগে পুলিশকে অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে সরকারি দল পুলিশকে জনগণের স্বার্থে ব্যবহার না করে, ব্যবহার করেছে দলগত স্বার্থে, ব্যক্তিগত স্বার্থে। অনেক সৎ পুলিশ কর্মকর্তাও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। আমাদের এখন এই ভাবনাটা ভাবা জরুরি, কীভাবে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজিয়ে গুছিয়ে নেওয়া যায়। যেহেতু অন্যান্য বাহিনী থেকে অপেক্ষাকৃত জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পুলিশ বাহিনীরই সবচেয়ে বেশি যেমন, জনসাধারণের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার রক্ষা করা, দেশের প্রচলিত আইন বলবৎ করা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা দায়িত্বগুলো যেহেতু তাদের, সেহেতু পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অতিদ্রুত কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।
সমগ্র দেশেরই যেখানে সংস্কার চলছে, সেখানে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতেও সংস্কারের যথেষ্ট প্রয়োজন আছে। পুলিশ আইনের ধারা : ২৩-ক-এর ১ নম্বরে বলা হয়েছে, প্রত্যেক পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ ও আইনানুগ আদেশ পালন। এখন এই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ কতটা বৈধ আর আইনানুগ তার একটি বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব তথাকথিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যতসব দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপেশারির মুখ্য চর্চাকারী। তাদের অনুসারীই হলো জুনিয়র বা মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা। অথচ কোনো বিতর্কের ঘটনা ঘটলে জুনিয়র বা মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্য পর্যন্তই ব্যাপারগুলো স্থিতিশীল থাকে। তাদের মদদদাতা পর্যন্ত পৌঁছানোর সাধ্য হয়ে উঠে না। এসব মদদদাতা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো, পুলিশ বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত ও জোরদার করা। এ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন থেকে নিম্নবর্গের যেসব কর্মকর্তা আছেন, সবাইকেই জবাবদিহির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে এবং স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে না পারে। এ রকমটা হলে ভালোর চেয়ে মন্দের পাল্লাটাই বেশি ভারী হয়। বাংলাদেশ পুলিশ আইন পিআরে (পুলিশ রেগুলেশন) ইতিমধ্যে বেশি কিছু আইনের সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনুযায়ী আবারও করা উচিত। পুলিশ বাহিনীকে যেন আর কোনো সরকারের আমলেই দলীয়করণ করা না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কিছু বিধিমালা প্রণয়ন করে তাদের স্বতন্ত্র ঘোষণা করতে হবে। তা ছাড়া, শুধু আইনপ্রণয়ন নয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সিনিয়র অফিসারদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করতে হবে। জনগণের ওপর প্রভুত্ব বিরাজকারীদের কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সর্বোপরি, পুলিশ বাহিনীর আগের সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের জনগণের ভক্ষকে নয়, রক্ষকে পরিণত করতে হবে। জনগণের সত্যিকারের বন্ধুরূপে আবির্ভূত করতে হবে। পুলিশ বাহিনী যেন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবমুক্ত থাকে, সেদিকে দৃষ্টি স্থাপন করা প্রয়োজন। তাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও পুলিশি মূল্যবোধ সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও যথাযথ শিক্ষা প্রদানেরও প্রয়োজন রয়েছে। তা ছাড়া, পুলিশকে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে দেশ সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
"






































