reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৯ জুন, ২০২৬

দেশীয় শিল্পে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসুক

সরকার দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। উৎপাদন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের শিল্প খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেই লক্ষে সরকার বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একাধিক প্রণোদনা ও কর-রেয়াত সুবিধা ঘোষণা করেছে। বন্ড সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি, বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির মতো উদ্যোগকে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের আশা, এসব পদক্ষেপ নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনবে, পাশাপাশি সমৃদ্ধ হবে দেশ।

বলা সংগত, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া এ বাজেটকে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতের উদ্যোক্তা ছাড়া বেশিরভাগই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব মনে করছেন। তাদের মতে, বাজেটে সরকার যে প্রণোদনা ও নীতি-সহায়তা ঘোষণা করেছে সেগুলোর ইতিবাচক প্রভাব বেসরকারি খাতে পড়বে। উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশি বিভিন্ন খাতে করছাড়, কিছু ক্ষেত্রে কমানো ও কিছু ক্ষেত্রে দেশে তৈরি পণ্যের বিপরীতে একই বিদেশি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে কর বাড়ানোসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে নতুন অর্থবছরের বাজেটে। একইসঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের মতো শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের বন্ড সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেসব বাধার মুখোমুখি হতো, তাও কমানোর প্রতিশ্রুতি মিলেছে বাজেটে। এসব উদ্যোগের ফলে শিল্প খাতে ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বাড়বে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অন্যান্য রপ্তানি খাত কাঁচামাল আমদানিতে বর্ধিত সময় ধরে বন্ড সুবিধা পাবে। এজন্য বিদ্যমান বন্ড-সংক্রান্ত বিধিবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং টাওয়েল, লিলেন ও হোমটেক্সটাইল বা ঘরের অন্দরসজ্জা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জেনারেল বন্ডের মেয়াদ এক বছরের জায়গায় তিন বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। পাশাপাশি ১০টি খাত বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পাবে। যা দেশের শিল্প বিকাশে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া এ বাজেটে রপ্তানি খাত নিয়ে ইতিবাচক বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের বেশকিছু সমস্যা সমাধানে এসব সুবিধা কাজে আসবে। বাজেটে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে অন্যান্য দেশের মতো মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের সুবিধার্থে কাস্টমস আইনে একটি নতুন অধ্যায়সহ কিছু বিধান সংযোজনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মুক্তবাণিজ্য অঞ্চলের ভেতরে রপ্তানির উদ্দেশে পণ্য শুল্ক ও কর ব্যতিরেকে আমদানি করে তা সংরক্ষণ, মোড়কজাত, মান অনুযায়ী শ্রেণিকরণ, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি। কারণ বন্ডের মেয়াদ এক বছর থাকলে মেয়াদ শেষে প্রায় দুই-তিন মাস আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকতো। তখন বন্দরে আটকা পণ্যের জন্য মাশুল গুনতে হতো। এখন মেয়াদ তিন বছর বাড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে রপ্তানি খাতের জন্য।

বলা বাহুল্য, শ্রমঘন এই শিল্প খাতগুলো ধরে রাখা এবং উন্নয়ন ঘটানো গেলে দেশ থেকে যে হাজার হাজার তরুণ বিদেশ চলে যাচ্ছেন, এগুলোর মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান হলে বিদেশ যাওয়া অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বেকারত্বের হারের গ্রাফও নিচের দিকে থাকবে। তবে অর্থনীতির অপরিমেয় সমৃদ্ধির উৎস এ খাতগুলোর সমস্যার নিরসনে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ প্রয়োজন। খাতগুলো রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যথাযথ দৃষ্টি দেওয়া এবং দিকনির্দেশনা দেওয়াও জরুরি। আমরা চাই, সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারব। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়