reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৮ জুন, ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

অপরাধ দমনে চাই আরো কার্যকর পদক্ষেপ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যের লড়াইয়ে বেড়েছে খুনোখুনি। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই আশঙ্কাজনক। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দেশে প্রতিদিনই ঘটছে একাধিক খুনের ঘটনা। এতে জনমনে তৈরি হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা। এসব সন্ত্রাসী ঘটনার মূলে রয়েছে রাজনৈতিক কোন্দল ও অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত তিন মাসে সারা দেশে ৯১৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতা এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ সস্ত্রাসীদের মুক্তি ও দেশে ফিরে আসা সহিংসতা বাড়ার অন্যতম কারণ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন রাজপথে এসে ঠেকেছে। ক্ষমতার লড়াইয়ে অপরাধী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে দেশজুড়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটছে।

বলা সংগত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্য অপরাধীদের ধরতে কাজ করছে। বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের গ্রেপ্তারও করছে; কিন্তু তারপরও অপরাধীদের দমানো যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রবাজির পেছনে বিগত জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র লুটেরাদের ভূমিকা রয়েছে। জেল পালানো ও জামিন নিয়ে বেমালুম বের হয়ে যাওয়া বড় অপরাধীরাও তাদের পুরোনো কর্মে ফিরে গেছে। কাজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি না পেলে এ পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা মনে করি, যেকোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার বিকল্প নেই। জুলাই বিপ্লবের পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোপুরি কার্যকর করা যাচ্ছে না কেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে যৌথ বাহিনীর অভিযানের পরিধি বাড়াতে হবে। ঘটনা ঘটে গেলে নয়, অঘটনের আগেই তা ঠেকাতে গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত কেউ অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে কি না কিংবা নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, একই দল এবং একই নেতৃত্বের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও সংঘাতের পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ, আধিপত্য বিস্তার, অর্থনৈতিক প্রভাব, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ সুবিধা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতাই বেশি ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে স্বার্থের দ্বন্দ্ব। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ করে নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

বলা বাহুল্য, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সংকট কাটাতে হলে আত্মসমীক্ষা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনয়ন ও এ থেকে উত্তরণের পথ তৈরিতে সরকারকে অতিদ্রুত আত্মসমীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই হবে। এ ক্ষেত্রে যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, বিশেষত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত সাফল্য মিলবে। মনে রাখতে হবে, কোনো অজুহাতই নাগরিকের অমূল্য জীবনের সমান হতে পারে না। রাজধানীসহ সারা দেশে হত্যা-খুনসহ সব ধরনের অপরাধ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়