মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

  ২৬ জুন, ২০২৬

ভৈরব

সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরমান হোসাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আগানগর ও শিমুলকান্দি এ দুটি ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্যসহ ১১ ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউপি সদস্যদের মাসিক সম্মানীভাতা থেকে ৫০০ টাকা করে ঘুষ নেন। ঘুষের টাকা না দিলে তাদের সদস্য পদ থাকবে না বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে অসৌজ্যমূলক আচরণও করেন। এ ছাড়াও ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত গ্রামপুলিশের বেতনভাতা নিতে গেলে ওপর মহলে টাকা দেওয়ার কথা বলে তাদের মাসিক বেতনভাতা থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা ঘুষ নেন অভিযুক্ত এ কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ইউনিয়নের সেবা গ্রহীতা নারী ইউপি সদস্যরা কোনো কাজে তার কাছে গেলে (তার দায়িত্বে পড়ে না) এমন কাজও করে দেওয়ার আশ্বাসে ভুক্তভোগীদের মোবাইল নম্বর নিয়ে থাকেন। পরে ওই সব নারীর সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা বলে বিব্রতর করে থাকেন। অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করতে অনেক নারী ইউপি সদস্যকে প্রস্তাব করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।

গত ৮ জুন ৩ জন নারী ইউপি সদস্যসহ ১১ জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকের নিকট এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে গত বুধবার অভিযোগের তদন্ত হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

বুধবার তদন্ত করতে আসা তদন্ত কমিটির সদস্য সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্র্যাট শেখ সোয়েব এ বিষয়ে বলেন, ভৈরব উপজেলার ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করেছি। তদন্তের বিষয়টি গোপনীয়, তাই আমি তদন্ত রিপোর্টটি জেলা প্রশাসকের নিকট জমা দিব।

অভিযোগকারী আগানগর ইউনিয়নের সদস্য জাহাংগীর আলম বলেন, ওই কর্মকর্তা আরমানকে আমাদের মাসিক ভাতা থেকে ৫০০ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। এ কারণে আমরা অভিযোগ করেছি। শিমুলকান্দি ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য রত্না বেগম বলেন, আরমানের অফিসে সেবা নিতে গেলে তিনি আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। যার জন্য আমি অভিযোগ করেছি।

অভিযুক্ত আরমান হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, ঘুষের টাকা দাবি ও নারী ইউপি সদস্যদের সঙ্গে অনৈতিক সংলাপ বিষয়টির অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ এ বিষয়ে বলেন, অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের নিকট করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন। কাজেই এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।

বিষয়টি জানতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনকে তার মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়