সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ, গুরুদাসপুর (নাটোর)

  ২৬ জুন, ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুর

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে চলছে ৪১ প্রাথমিক বিদ্যালয়

নাটোরের গুরুদাসপুরে ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় ব্যবস্থাপনা ও পাঠদান কার্যক্রম খুঁড়িয়ে চলছে বলে ভুক্তভোগী বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অভিযোগ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯০টি। যার ৪১টিতে প্রধান শিক্ষক ও ৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ ফাঁকা আছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ১০টি পদে মামলা চলমান রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে মোট ৭৪টি পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মানসম্পন্ন পাঠদান এবং ব্যবস্থাপনা। শিক্ষক ঘাটতি পূরণে কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট জরিপ তালিকা অনুযায়ী এসব বিদ্যালয়ে ২৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।

গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিনা রায় বলেন, তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এক বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক দুটো দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে বেগ পেতে হচ্ছে তাকে।

চাঁচকৈড় শিক্ষা সংঘ সরকারি প্রাথমিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মর্জিনা খাতুন বলেন, তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। এর পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক নানা কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। এ কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

পার-গুরুদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমেনা খাতুন বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অন্য শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার নজরদারি কমেছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বাস্তবায়ন চান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ৫টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বাড়তি সম্মানী না থাকলেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যতায় দায়িত্বরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না থাকা ক্লান্তিবোধ থেকে হতাশায় ভুগছেন অনেকেই। এতে মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী এলাকার অভিভাবকরা বলেন, সবারই চাওয়া মানসম্মত পাঠদান। কিন্তু স্বল্প শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত, যুগোপযোগী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার কতটুকু সম্ভব। তিনি দ্রুত প্রধান ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী বলেন, উপজেলার প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৩৩ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পাঠ পর্যবেক্ষণ, পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম, রিপোর্টিং, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা মূল্যায়ন, মিড ফিডিং কার্যক্রম এবং স্কুল ব্যবস্থাপনাসহ মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শূন্যপদগুলোতে নিয়োগের জন্য ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নিয়োগ দিলে এ সমস্যা কেটে যাবে।

চলমান শিক্ষক সংকট নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা তার হাতে নেই। এটা সরকারি বিষয়। শিক্ষক সংকট কাটিয়ে উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা এগিয়ে যাক এটা তিনিও চান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়