মো. মনিরুজ্জামান, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী
৭ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ লাখো মানুষের চরম ভোগান্তি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থিত সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ সোনাহাট সেতু দিয়ে চলাচলের জনদুর্ভোগ লাগবে দুধকুমার নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক বিভাগ। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে অপেক্ষার প্রহর ততই দীর্ঘ হচ্ছে। ২ বছরের কাজ শেষ হয়নি ৭ বছরেও। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, দুধকুমার নদের ওপর ৬৪৫ দশমিক ১৫ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ২০১৯ সালে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড যৌথভাবে সেতুটির নির্মাণকাজ পায়। দুই বছরে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার দফা সময়সীমা ও ব্যয় বাড়িয়ে তা দীর্ঘ ৭ বছরেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর হতে পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং কচাকাটা থানাসহ ৬টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সওজ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুধকুমার নদের পূর্বপাড়ের মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে বেইলি সেতুর দক্ষিণে দুধকুমার নদের ওপর নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে সওজ। ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার চুক্তিতে শুরু হওয়া সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, নকশা পরিবর্তন ও করোনাকালীন স্থবিরতাসহ ঠিকাদারের কাজে ধীরগতির কারণে সেতু নির্মাণ শেষ করতে চারবার সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ছয় কোটি টাকার বেশি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পিলারের ওপর গার্ডার স্থাপনের কাজ শেষ হলেও ঢালাই বাকি রয়েছে। শেষ হয়নি সেতুর দুই পাশের সুরক্ষা কাঠামোর (রেলিং) কাজ। সেতুর পশ্চিম পাড়ের সংযোগ সড়কের কাজ চলমান থাকলেও ভূমি অধিকরণ জটিলতায় পূর্ব পাড়ের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ বেইলি সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় পুরাতন ও জরাজীর্ণ রেলসেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে দুধকুমার নদের পূর্ব প্রান্তের কয়েকটি ইউনিয়নের লাখো মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন। পরিবহন ঝুঁকির কারণে গতি পাচ্ছে না স্থলবন্দরের কার্যক্রম। এদিকে ঝুঁকি এড়াতে সেতুর ওপর একসঙ্গে উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। একমুখী ও ধীরগতির যাতায়াতের কারণে প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়ছেন মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা।
সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম, আরিফ ও জহুরুল ইসলাম জানান, নতুন সেতুর অভাবে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় সরকারের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় পূরণ হচ্ছে না। পুরোনো রেলসেতু দিয়ে পর্যাপ্ত মালামাল পরিবহন করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। দ্রুত সেতুর কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানান তারা।
কুড়িগ্রাম সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, পুরোনো সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সেতুর কাজ প্রায় শেষের দিকে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর পূর্ব প্রান্তের অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ শুরু করা যায়নি। ভূমি অধিগ্রহণের পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ শেষে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
"





































