কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
কালিয়াকৈর
মহাসড়কে হোটেলে মিলছে মাদক, যুবসমাজের অবক্ষয়

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর অংশ-মৌচাক থেকে কালিয়াকৈর বোর্ডঘর পর্যন্ত মাত্র ১২ কিলোমিটার এলাকা। এই ১২ কিলোমিটারের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ভাতের হোটেল-রেস্টুরেন্ট-চায়ের দোকান। দিনের আলোয় এগুলো খাবারের দোকান ও নেশার কারখানা হয়। আর রাত ১০টার পর এগুলোই হয়ে ওঠে ভয়ংকর যুবসমাজ ধ্বংসের নীরব কারখানা। ভাত-ভর্তা-ডালের প্লেটের আড়ালে অভিযোগ পাওয়া যায় দেদার চলছে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনের বেচাকেনা।
সরেজমিনে ১৫ দিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মৌচাক বাইপাস, চান্দুরা, সফিপুর, খাড়াজোড়া ফ্লাইওভারের নিচে, বোর্ডঘর এলাকার হোটেলগুলোয় রাত নামলেই ভিড় বাড়ে। ১৮-২৫ বছর বয়সি তরুণরা চা-সিগারেট খাওয়ার নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে। হোটেল বয় অর্ডার নেওয়ার সময়ই ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে মাল লাগবে ভাই।
টয়লেটে গেলেই দেখা যায় দেয়ালের ফাঁকে, ফ্লাশের ট্যাংকে পলিথিনে মোড়ানো ইয়াবার প্যাকেট। ক্যাশ কাউন্টারের নিচের ড্রয়ারে নোটের ফাঁকে গাঁজার পুরিয়া। ৭০ টাকার ভাত খেয়ে বের হওয়ার সময় ২০০ টাকার ইয়াবা পকেটে নিয়ে যায় তরুণরা।
কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর মা কান্নায় ভেঙে পড়েন স্যার, আমার ছেলে ইন্টার ২য় বর্ষে পড়ে। রোজ সকাল ৮টায় কলেজ যাই বলে বের হয়। রাত ১২টায় ফেরে চোখ লাল করে। খোঁজ নিয়ে দেখি মহাসড়কের অমুক হোটেলেই ওরা আড্ডা দেয়। ৬ মাসে ৩০ হাজার টাকা চুরি করছে ঘর থেকে। আমরা গরিব মানুষ, জমি বিক্রি করে ওকে পড়াচ্ছি। এখন দেখি ছেলে নেশাখোর। কে বাঁচাবে আমাদের।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ বলেন, জুমার খুতবায় মাদকের বিরুদ্ধে বলি। নামাজের পর বাপ-মায়েরা কান্না করে। বলে হুজুর দোয়া করেন, ছেলে যেন নেশা ছেড়ে দেয়।
অভিযোগ পাওয়া যায়, মৌচাক থেকে বোর্ডঘর- পুরা এলাকাটাই এখন মাদকের অভয়ারণ্য।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। গত ১৫ দিনে মহাসড়ক এলাকা থেকে কয়েকটি মাদক মামলা দিয়েছি। বিপুল পরিমাণ মাদকসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। হোটেলগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি।
তিনি আরো বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ বা মাদক কারবারিদের সহায়তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকদের কাছে অনুরোধ তথ্য দিন, আমরা অ্যাকশনে যাব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গাজীপুর জোনাল অফিসের সহকারী পরিচালক বলেন, কালিয়াকৈর মহাসড়ক আমাদের নজরে আছে। এখানে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ট্রানজিট রুট হিসেবে মাদক আসে টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ থেকে। হোটেলগুলোকে ডিলার পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নাগরিকরা হটলাইনে তথ্য দিলে আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালাব। নাম-পরিচয় গোপন থাকবে।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার বলেন, প্রতি মাসে ১০-১৫ জন ইয়াবা-গাঁজা আসক্ত রোগী আসে। এদের মধ্যে ৭০% ১৫-২০ বছরের ছেলে। লিভার, কিডনি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
"






































