তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

  ১০ অক্টোবর, ২০২১

ড্রাগন চাষে সফল শামীমা

রংপুরের তারাগঞ্জে ড্রাগন ফলের চাষ করে সাড়া ফেলেছেন প্রথম নারী কৃষি উদ্যোক্তা শামীমা আক্তার। তার বাবা শামসুল কাদের সরকার কৃষি ফসল ও মাছ চাষের জন্য উপজেলার শ্রেষ্ঠ কৃষকসহ জেলাপর্যায়েও বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। শামীমা ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সেই আগ্রহেই এই সফলতার মুখ দেখছেন।

জানা গেছে, প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয় শামীমার। বিয়ের পর একবার ভ্রমণে ভিয়েতনামে যান। সেখানে গিয়ে ড্রাগন ফল খেয়ে নিজের বাড়িতে ড্রাগন ফলের চাষ করার পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি বাড়িতে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে বাবার দেওয়া ৫৫ শতাংশ জমিতে ২০১৬ সালে প্রায় ৮০০ ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করে বাগান শুরু করেন।

এই নারী কৃষি উদ্যোক্তা শামীমা আক্তার বলেন, বছরে প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ৭০টি ড্রাগন ফল ধরে। প্রতিটি ফল ওজনে প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতি কেজি ড্রাগন প্রায় ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

তিনি আরো বলেন, ড্রাগন চাষ সম্পর্কে পরামর্শ নিতে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসেন। তাদের ড্রাগন চাষ সম্বন্ধে পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করে থাকি। এরই মধ্যে এলাকার অনেকেই বাসা-বাড়ির ছাদে ও আঙিনায় ড্রাগন ফলের চারা লাগিয়ে চাষাবাদ শুরু করছেন। ড্রাগন গাছে বছরে গড়ে দুই-একবার সার দিলেই হয়। গাছে পাতা কম থাকায় পোকার আক্রমণ কম। সঠিক পরিচর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে ফল পাওয়া যায়। দেশে মাঠ পর্যায়ে এ ফলের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে বিদেশি ফলের আমদানি নির্ভরতা কমবে বলে জানান তিনি।

রংপুর হর্টিকালচারের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানান, শামীমা যে ড্রাগন ফলের বাগানটি গড়ে তুলেছে সেটি রংপুরের সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান। তিনি রংপুরের প্রথম নারী কৃষি উদ্যোক্তা। বিভিন্নভাবে তাকে বাগান পরিচর্যায় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাছছুম জানান, উপজেলায় ড্রাগন ফলের চাষ বাড়াতে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close